সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দেবী দুর্গা সম্পর্কে দুটি কথা : মায়ের প্রতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~TatwaDarshi~तत्त्वदर्शी ॐ


দেবী দুর্গা সম্পর্কে দুটি কথা : মায়ের প্রতি







ভক্তের আকুল আবেদনে হৈমবতি কৈলাস পর্বত থেকে নেমে আসেন মা দূর্গা। তিনি অদ্যাশক্তি মহামায়া অর্থাৎ মহাজাগতিক শক্তি ‌ । তিনি জয়দূর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, কালরাত্রী, বনদূর্গা, চণ্ডী, নারয়ণী প্রভৃতি নামেও পূজিতা হন। দূর্গা শব্দের অর্থ দুঃ - গম্+অ= দুর্গ। যে স্থানে গমন করা অত্যন্ত দূরহ্ তাকে দুর্গ বলে। দুর্গ শব্দের সঙ্গে আ প্রত্যয় যোগে দূর্গা শব্দটি গঠন করা হয়েছে এবং স্ত্রী লিঙ্গে  ব্যাবহার করা হয়েছে। যিনি মহামায়া তিনি দুরধিগম্য- তাঁকে দুঃসাধ্য সাধনার দ্বারা পাওয়া যায়। তাই তিনি দূর্গা। তিনি ব্রহ্মের শক্তি বলেও দুরধিগম্য এবং সাধন সাপেক্ষ। আবার দুর্গম অসুরকে বধ করেছেন বলেও তাঁকে  দূর্গা বলা হয়। দুর্গা শব্দের আরেকটি অর্থ হলো দুর্গতিনাশিনী দেবী অর্থাৎ এ মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ - কষ্ট বিনাশকারিণী দেবী। শরৎকালে মাকে কন্যারূপে ঘরে তোলা হয়। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে প্রতিমা স্থাপন করার মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা চলে। কন্যারূপী মা দুর্গাকে স্মরণ করে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গা পূজার বিশেষ একটি দিক হচ্ছে কুমারী পূজা। কুমারী কোন একজন মেয়েকে মায়ের আসনে বসিয়ে মাতৃভাবে তার পূজা করা হয়। সাধারণ রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজা করা হয় ‌ । কুমারী পূজায় নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয় ‌ । এভাবেই মায়ের প্রতি ভক্তি জাগ্রত হয়।

মা দূর্গা সমন্ধে আপনারা অনেকেই অনেক কথা শুনেছেন অনেক অসুরে সাথে যুদ্ধ হয়েছিল। অসুরদের বিনাশ করে তিনি দেবতাদের স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমি অবশ্য সেকথা ঘুরেফিরে না বলে অন্য বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করি। দুর্গা পূজায় দেখা যায় একটা কলা গাছ থাকে, আমরা অনেকেই বলে থাকি কলাবৌ । সেই কলা গাছটিকে নতুন শাড়ি পড়ানো হয়। আসলে সেটি কি আমরা অনেকেই জানি না। সপ্তমীর দিন নবপত্রিকা পূজা হয়। নব পত্রিকা মূলত নয়টি গাছের সমাহার। এগুলো হলো___ কদলী ( কলা) , দাড়িম্ব ( ডালিম), ধান্য ( ধান) , হরিদ্রা ( হলুদ) , মানক ( মানকচু) , বিল্ব (বেল) , অশোক এবং জয়ন্তী। একটি কলা গাছের সাথে অন্য গাছের চারাগুলো বেঁধে দেওয়া হয়। নবপত্রিকা মধ্যে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ননামে অধিষ্ঠিত। কদলী বা রম্ভা (কলা গাছ): অধিষ্টাত্রী দেবী ব্রহ্মাণী; কচু গাছের অধিষ্টাত্রী দেবী কালিকা; হরিদ্রা (হলুদ গাছ):  অধিষ্টাত্রী দেবী উমা; জয়ন্তী: অধিষ্টাত্রী দেবী কার্তিকী; বিল্ব (বেল গাছ):  অধিষ্টাত্রী দেবী শিবা; দাড়িম্ব (ডালিম): অধিষ্টাত্রী দেবী  রক্তদন্তিকা ,;অশোক:  অধিষ্টাত্রী দেবী শোকরহিতা; মানকচু:  অধিষ্টাত্রী দেবী চামুণ্ডা; ধান:  অধিষ্টাত্রী দেবী লক্ষ্মী। মহালয়ার পরদিন থেকে প্রথমা থেকে দশমী অবধি দুর্গা পূজার মধ্য দিয়ে মায়ের বিশেষ নয়টি রূপের পূজা হয়ে থাকে, সেই নয়টি রূপকে একসাথে নবদুর্গা বলা হয়। সেগুলো হচ্ছে, মহাগৌরী, ব্রহ্মচারিনী, চন্দ্রঘন্টা, কুষ্মাণ্ডা, কাত্যায়নী, স্কন্দমাতা, কালরাত্রী, মহাগৌরী,  সিদ্ধিদাত্রী মাতা নামে পূজিত হন।

" ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণী নম‌হস্তুতে।। ( শ্রীশ্রীচণ্ডী, ১১/১০)

" হে দেবী সর্বমঙ্গলা, শিবা, সর্বার্থসাধিকা, শরণযোগ্যা, গৌরী, ত্রিনয়না, নারায়ণি, _ তোমাকে নমষ্কার।

অসুর বিনাশের নিমিত্তে হৃদয়ের কলুষ দূর করার জন্য , জগতের মঙ্গলার্থে মা দূর্গা  আসেন । তিনি বিশ্ব জননী, এই আকাশ, মাটি, পানি, বায়ু , জল , ত্রিভুবন তার‌ই সৃষ্টি। তিনি পরমানন্দ স্বরূপা। জগতের মঙ্গলের জন্য তিনি বারবার আসেন। ঋগ্বেদে রাত্রিসূক্তে মায়ের স্তুতি দেওয়া হলো...

ওঁ রাত্রী ব্যখ্যদায়তী পুরুত্রা দেব্যক্ষভিঃ।
বিশ্বা অধি শ্রিয়হধিত।। ১
ওর্বপ্রা অমর্ত্যা নিবতো দেব্যুদ্বতঃ।
জ্যোতিষা বাধতে তমঃ।। ২
নিরু স্বসারমস্কৃতোষসং দেব্যায়তী।
অপেদুহাসতে তমঃ।। ৩
সা নো অদ্য যস্যা বয়ং নিতে যাম্যন্ন্যবিক্ষ্মহি।
বৃক্ষেণ বসতিং বয়ঃ।। ৪
নি গ্রামাসো অবিক্ষত নিপদ্বন্তো নিপক্ষিণঃ।
নি শ্যেনাসশ্চিদর্থিনঃ।। ৫
যাবয়া বৃক্যং বৃকং যবয়স্তেনমূর্ম্যে।
অথা নঃ সুতরা ভব।। ৬
উপ মা পেপিশত্তমঃ কৃষ্ণং ব্যক্তমস্থিত।
উষ ঋণেব যাতয়।। ৭
উপ তে গা ইবাকরং বৃণীষ্ব দুহিতর্দিবঃ।
রাত্রি স্তোমং ন জিণ্ড্যষে।। ৮

ইতি ঋগ্বেদোক্তং রাত্রিসূক্তং সমাপ্তম্।

" ওঁকারময়ী সর্বব্যাপিনী ভুবনেশ্বরী রাত্রী দেবী সর্বদেশে তাহার চক্ষুঃস্থানীয় মহদাদি তত্ত্ব দ্বারা সর্ববস্তুর দ্যোতনাশীলা ( প্রকাশিকা) হ‌ইয়া ( অর্থাৎ আপনাকে জগদাকারে প্রকাশ করিয়া) স্বোৎপাদিত সদসৎকর্মপূর্ণ জগজ্জাল বিশেষরূপে দর্শন করিলেন। অনন্তর সকল জীবের স্ব স্ব কর্মানুরূপ ফল প্রদান করিলেন। ১

অমরণধর্মা নিত্যা রাত্রিদেবী ( বা মহামায়া ) বিশ্বপ্রপঞ্চ ও প্রপঞ্চগত উচ্চ নিচ বৃক্ষলতাগুল্মদি স্বীয় আত্মচৈতন্যে পরিব্যাপ্ত করিলেন। ২

ঐ রাত্রি দেবতা সহোদরা- স্থানীয়া প্রকাশময়ী উষার ( অবিদ্যার) আবরণী শক্তি বিনাশ করেন। উষার সেইরূপ অবস্থায় ( প্রারব্ধ কর্মক্ষয়ে বিক্ষেপশক্তি নষ্ট হ‌ওয়ায়) মূল্যজ্ঞান অপসৃত হয়। ৩

ঐ মন্ত্রে রাত্রি দেবতার নিকট প্রার্থনা করা হ‌ইতেছে ___ সেই দেবী ভুবনেশ্বরী আমাদের প্রতি এই ( প্রার্থনার) সময় প্রসন্না হ‌উন । তাঁহার প্রসাদে পক্ষিগণ যেমন বৃক্ষে নীড়াশ্রয়ে সুখে রাত্রিবাস করে, সেইরূপ আমরা আমাদের স্ব-স্বরূপে স্থিতিলাভ করিতে পারিব। ৪

ঐ কৃপাময়ী ভুবনেশ্বরী দেবীর করুণায় আপামর গ্রামবাসীগণ, গবাশ্বাদি পশু, পক্ষিগণ, কামার্থিগণ এবং শোনাদিও সুখে শয়ন করে। ৫

হে জননী রাত্রিদেবী, আপনি দয়াবতী। আপনি করুণাপূর্বক আমাদের অনুষ্ঠিত পাপাচরণ উপেক্ষা করিয়া নানা বাসনারূপ ব্যাঘ্রী ও ব্যাঘ্র- সদৃশ হিংসাকারী পাপসকল হ‌ইতে আমাদিগকে রক্ষা করুন এবং আমাদের চিত্তাপহারক কামাদি তস্করসমূহ দূর করিয়া অনায়াসে আমাদিগকে সংসার - সাগর হ‌ইতে উদ্ধার করুন অর্থাৎ আমাদের মোক্ষদাত্রী হ‌উন। ৬

হে রাত্রিদেবতা, সকল বস্তুতে অতিশয় সংশ্লিষ্ট কৃষ্ণবর্ণ গাঢ় নৈশ তমোতুল্য অজ্ঞান আমার নিকট উপস্থিত হ‌ইয়াছে।

হে উষাদেবতা, আপনার স্তোতৃগণকে ধনপ্রদানের দ্বারা আপনি যেমন তাহাদের ঋণাপগমণ করেন, সেইরূপ আমার অজ্ঞান অপসারণ করুন। ৭

হে রাত্রিদেবী, দুগ্ধবতী ধেনুর ন্যায় আমি আপনাকে স্তুতিজপাদি দ্বার প্রসন্না করিতেছি। আপনি পরমাকাশরূপ সর্বব্যাপী পরমাত্মার কন্যা‌। আপনার প্রসাদে আমি কামাদি শত্রু জয় করিব। আমার এই স্তোত্র ও প্রদত্ত হবি কৃপাপূর্বক গ্রহণ করুন। ৮

সর্বকারণের কারণ স্বরূপ, পরমব্রহ্ম রূপিণি, সচ্চিদানন্দ-স্বরূপা তিনিই পরমতত্ত্ব মা দূর্গা । তিনি সর্ব জীবের মুক্তি দাতা।  তাঁর নাম স্মরণ করলে সর্ব বিপদ - আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই তো কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেন বলেছেন... 
" শ্রীদুর্গা স্মরণে সমুদ্র মন্থনে বিশ্বনাথে বিষপানে ম'ল না।"
যার নাম জপ করলে সমস্ত দুর্গতি নাশ হয়। যার চরণে একবার ঠাঁই নিতে পারলে আর কিছু চাওয়ার থাকে না। নিমিষেই সব চাওয়া পূরণ হয় ।  সেই মায়ের কাছে চোখের জলে মায়ের রাঙা পা ধুয়ে দিয়ে, নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবেই না মায়ের কাছে যাওয়ার পথ সুগম হবে।

" আদিঅন্তহীন কালের বক্ষে লীলা করেন বলিয়া তিনি কালী। বিশ্বের সকল কিছুকে আকর্ষণ করেন বলিয়া তিনি কৃষ্ণ। তিনিই শিব, তিনিই রাম, তিনি‌ই হ্লাদিনী শক্তি রাধা। বিশ্বের সকল জড়-জীব বিভিন্ন নামে তাহাকেই উপাসনা করে। সকল নামের নদী ঐ পরমাত্মারূপিণি মহাসাগরে গিয়া মিলিয়াছে__ এক কথায় তিনি সর্বনাম। যিনি নির্গুনা, নিরাকারা,  চৈতন্যরূপিণি, কেবল অনুভব সিদ্ধা, তাঁহাকে কোন নামে ডাকিব? তিনিই আদি পিতা, তিনিই আদি মাতা, অথচ তিনি পুরুষ‌ও নন, নারীও নন।" 
( দেবীস্তুতি, নজরুল রচনাবলী-৮ম খন্ড, বাংলা একাডেমী, ফেব্রুয়ারি ২০১৮, পৃষ্ঠা -২৪৩)

ওঁ যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। 
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। 
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
(গীতা:৪.৭-৮)

“যখন যখনই ধর্মের গ্লানি হয়ে অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করি, অর্থাৎ সাকাররূপে অবতীর্ণ হয়ে জনসমক্ষে প্রকটিত হই। এভাবেই যুগে যুগে সাধুদের পরিত্রাণ করি এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করি।"

আমরা যেভাবে যে উপাসনা করি না কেন সবদিক দিয়ে মায়ের‌ই উপসনা করি। চতুর্বেদেও দেখতে পাই চিন্ময়ী মাতৃভাবের কথা।

ওঁ যদন্তঃস্থানি ভূতানি যতঃ সর্বং প্রবর্ততে।
যথাহুস্তৎ পরং তত্ত্বং সৈক ভগবতী স্বয়ম্।। ( ঋগ্বেদ)

___ স্থূল সূক্ষ্ম এই সমস্ত জগৎপ্রপঞ্চ যাঁহাতে সূক্ষ্মরূপে বিলীন থাকে, আবার যাঁহার ইচ্ছানুসারে সচরাচর জগৎ হ‌ইয়া প্রকাশমান হয়, যিনি স্বয়ং ভগবতী শব্দে কীর্তিতা হন, তিনিই পরমতত্ত্ব।

ওঁ যা যজ্ঞৈরখিলৈরীশী যোগেন চ সমীড্যতে।
যতঃ প্রমাণং হি বয়ং সৈকা ভগবতী স্বয়ম্।। ( যজুর্বেদ)

___ নিখিল যজ্ঞ এবং যোগ দ্বারা যিনি স্তূতমান হন এবং যাঁহা হ‌ইতে আমরা ধর্মবিষয়ে প্রমাণস্বরূপ হ‌ইয়াছি, সেই অদ্বিতীয়া স্বয়ং ভগবতী পরমতত্ত্ব। 

ওঁ যদেদং ভ্রাম্যতে বিশ্বং যোগিভির্যা বিচিন্ত্যতে।
যদ্ভাসা ভাসতে বিশ্বং সৈকা দুর্গা জগন্ময়ী।। ( সামবেদ )

____ যাঁহার দ্বারা এই বিশ্বসংসার  ভ্রম- বিলসিত হ‌ইতেছে, যিনি যোগিগণের চিন্তনীয়া, যাঁহার তেজঃপ্রভাবেই সমস্ত জগৎ প্রকাশ পাইতেছি, সেই জগন্ময়ী দুর্গাই পরমতত্ত্ব।

ওঁ যং প্রপশ্যন্তি দেবেশীং ভক্তানুগ্রাহিণো জনাঃ।
তমাহুঃ পরমং ব্রহ্ম দুর্গা ভগবতীং মুনে।। ( অথর্ববেদ )

___ যাঁহার অনুগ্রহাশ্রিত লোকেরাই ভক্তিদ্বারা যাঁহাকে বিশ্বেশ্বরীস্বরূপে দেখিতে পায়, যাঁহাকে ভগবতী দুর্গা বলে, তিনিই ব্রহ্মতত্ত্ব ।

মা দুর্গা কে? এই লেখাটির মধ্যে দিয়ে আমরা কিঞ্চিত ধারণা পেলাম। মায়ের সম্পর্কে জানতে আরও বিস্তর পড়তে হবে। তিনিই প্রকৃতি রূপে চারদিক আচ্ছাদিত করে রেখেছেন। মায়া দিয়ে আমাদের চোখ অন্ধ করে রেখেছেন। তাঁর স্মরণ নিলে সেই মায়ার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।‌ মোক্ষ প্রাপ্তির জন্য সাধকগণ মাতৃ আরধনায় মেতে ওঠেন। 

দেবী প্রসীদ পরিপালয় নোহরিভীতেঃ
নিত্যং যথাসুরবধাদধুনৈব সদ্যঃ।
পাপানি সর্বজগতাঞ্চ শমং নয়াশু
উৎপাতপাকজনিতাংশ্চ মহোপসর্গান্।।
( চণ্ডী, ১১/৩৪ )

দেবী, আমাদিগের প্রতি প্রসন্না হ‌উন । সম্প্রতি স্মরণ মাত্র‌ই আপনি যেরূপ অসুরনাশ করিয়া আমাদিগকে রক্ষা করিলেন, সেইরূপ ভবিষ্যতেও আপনি সর্বদা আমাদিগকে শত্রুভয় হ‌ইতে রক্ষা করিবেন। দেবী, আপনি কৃপা করিয়া জগতের সমস্ত পাপ ও অধর্মের পরিণামে উৎপন্ন দুর্ভিক্ষ ও মহামারী প্রভৃতি উপদ্রবসকল শ্রীঘ্র নাশ করুন।

মম যোনিঃ মহত্ ব্রহ্ম তস্মিন গর্ভম দধামি অহম্‌।
সম্ভবঃ সর্বভূতানাম্‌ ততঃ ভবতি ভারত ।।
( গীতা,১৪/৩)

____হে ভারত, মহৎ নামে প্রসিদ্ধ ব্রহ্ম আমার ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতি।  ইহা সর্বভূতের উৎপত্তির কারণ। ইহাতে আমি গর্ভাধান ( সৃষ্টির বীজ নিক্ষেপ) করি। সেই গর্ভাধান হ‌ইতে হিরণ্যগর্ভাদি সর্বভূতের সৃষ্টি হয়।

যে শক্তি সম্পর্কে আলোচনা করার সাধ্য নাই, তাকে নিয়ে কি আর বলব! ক্ষুদ্র জ্ঞানে। চোখের জলে অঞ্জলী দিয়ে মায়ের শ্রীচরণে ঠাঁই নিতে পারলেই আর কিছু চাই না। ভক্তের আকুল আবেদন মায়ের কাছে পৌঁছাক, ভক্তিপুষ্পে মায়ের পূজা হোক। তিনিই বিশ্ব নিয়ন্তা, তিনিই সব, তিনিই আপন। 

তথ্যসূত্র : 
✓শ্রীশ্রীচণ্ডী  ( স্বামী জগদীশ্বরানন্দ, উদ্বোধন কার্যালয়, কলিকাতা। )
✓ তান্ত্রিকগুরু , শ্রীমৎ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব
√ শ্রীমদ্ভগবতগীতা 
✓ জ্ঞানচক্র , শ্রীমৎ স্বামী জ্ঞানানন্দ সরস্বতী
✓ হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা , পাঠ্যব‌ই দশমশ্রেণী।
✓ কাজী নজরুল রচনাবলী, ৮ম খন্ড।

© অন্তর চন্দ্র 

(সব‌ই শূন্যাকার‌ )


মন্তব্যসমূহ