সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গিরীশ চন্দ্র ঘোষের গান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~TatwaDarshi~तत्त्वदर्शी ॐ









 

গিরীশ চন্দ্র ঘোষের গান

 

আমার ধর্মকর্ম

আমার ধর্মকর্ম সকলি গেল
শ্যামাপূজা মম হলো না,
মননিবারিতে নারি কোনমতে
ছি ছি ছি, যেন বলো না।

কুসুম-অঞ্জলি দিতে শ্রীচরণে
ত্রিভঙ্গ-মাধব পারে সখীমনে,
পীতবসনে হেরি গো নয়নে
ভাবিতে দিই গো বাসনা।

ভাবি বনমালী কালিয় শিখরে
হেরি বনমালী বাঁশরিয়া ধরে,
ত্রিনয়না ধ্যানে বঙ্কিম নয়নে
হেরি হই সই বিমন,
একি লো, একি লো ছলনা
মরি নিদয় হরললনা।

 

আমি প্রেমের ভিখারী

আমি প্রেমের ভিখারী,
কে প্রেম বিলায় এ নদীয়ায়।

কে প্রেমের মাতাল
প্রেম ঢেলে দেয়,
যে যত চায় তত পায়।

প্রাণে-প্রাণে শুনে কথা
তাই তো আমি এলেম হেথা,
আমি দেশে-দেশে বেড়াই ভেসে
থেকে গেছি প্রেমের গাঁয়।

 

আমি বৃন্দাবনে

আমি বৃন্দাবনে বনে-বনে
ধেনু চরাব,
আমি খেলব কত ছুটোছুটি
বাঁশি বাজাব।

খেলতে বড়ো ভালোবাসি
ছুটে ছুটে তাইতো আসি,
আমার মনের মতো খেলার সাথী
কত জন পাব।

খেলব জীবন-মরণ খেলা
আলো-কালোর দেখব মেলা,
আবার কান্না-হাসির মন্দ-ভালো
পায়ে লুটাব।

 

আর ঘুমায়ো না মন

আর ঘুমায়ো না মন
মায়াঘোরে কতদিন,
রবে অচেতন।

কে তুমি, কী হেতু এলে
আপনারে ভুলে গেলে,
চাহ রে নয়ন মেলে
ত্যাজ গো সব।

রয়েছ অনিত্য ধ্যানে
নিত্যানন্দ হেরো প্রাণে,
তমোপরি হরি হেরো
অরুণ তপন।

 

উদার অম্বর

উদার অম্বর শুন্য সাগর
শুন্যে মিলাও প্রাণ,
শুন্যে শুন্যে ফোটে কত শত ভুবন,
তারকা-চন্দ্রমা, কত শত তপন
শুন্যে ফোটে অভিমান।

অহম, অহম গীতি শুন্যে বিভাসিত
শুন্যে বিকশিত মনোবুদ্ধিচিত,
মদমাৎসর্য ভোক্তাভোজ
শুন্য সকলি ভান।

 

কাতরে ডাকি হে

কাতরে ডাকি হে, এসো
আঁখিবারি ঢালি রাঙাপদে,
ভুলিয়াছি কমলচরণ
মত্ত মহামোহমদে।

বিষয়সাধনা বিষয়কামনা
হারায়েছি হায় বিষয়সম্পদে,
রাখো নাথ, রাখো দাসে
রাখো রাখো এ বিপদে।

হেরি লক্ষ্যহীন ঘুরি দিন-দিন
তৃণ পাকে-পাকে যেন মহাহ্রদে,
বিষাদে ব্যাকুল কভু
কভু মাটিছাড়া মদে,
হৃদয়শ্যামল কুঞ্চিতকোমল
বিকাশ হৃদি-কোকনদে।

 

কি ছার আর

কি ছার আর কেন মায়া,
কাঞ্চন-কায়া তো রবে না।

দিন যাবে দিন রবে না তো
কি হবে তোর তবে?
আজ পোহালো কাল কি হবে
দিন পাবি তুই কবে?

সাধ কখনো মেটে না ভাই
সাধে পড়ুক বাজ,
বেলাবেলি চল রে চলি
সারি আপন কাজ।

কেউ কারো নয়, দেখ না চেয়ে
কবে ফুটবে আঁখি,
আপন রতন বেছে নে চল
হরি বলে ডাকি।

 

কেশব কুরু করুণা

কেশব কুরু করুণা দীনে
কুঞ্জ-কাননচারী,
মাধব মনমোহন
মোহন মুরলীধারী।

ব্রজকিশোর কালিয়হর
কাতরভয়ভঞ্জন,
নয়ন বাঁকা বাঁকা-শিখিপাখা
রাধিকা হৃদিরঞ্জন।

গোবর্ধনধারণ বনকুসুমভূষণ
দামোদর কংসদর্পহারী,
শ্যামরাস রাসবিহারী
হরিবোল,হরিবোল,হরিবোল।

 

জয় শিবশঙ্কর

জয় শিবশঙ্কর হর ত্রিপুরারি
পাশি-পশুপতি পিনাকধারী,
শিরে জটাজুট, কণ্ঠে কালকূট
সাধক জনগণ মানসবিহারী।

ত্রিলোকপালক ত্রিলোকনাশক
পরাৎপর প্রভু মোক্ষবিধায়ক,
করুণানয়নে হেরো ভকতজনে
লয়েছি শরণ চরণে তোমারি।

 

জুড়াইতে চাই

(প্রাণ) জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই,
কোথা হ’তে আসি কোথা ভেসে যাই।

ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাঁসি
কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই,
কি খেলাই আমি খেলি বা কেন
জাগিয়ে ঘুমাই কুহকে যেন,
এ কেমন ভোর, হবে না কি মোর
অধীর অধীর যেমতি সমীর
অবিরাম ভক্তি নিয়ত ধাই।

আমি জানি না কে বা এসেছি কোথায়
কেন বা এসেছি কে বা নিয়ে যায়,
যাই ভেসে ভেসে কত দেশে দেশে
চারিদিকে গোল ওঠে নানা রোল,
কত আসে যায় কাঁদে হাসে গায়
এই আছে আর তখনি নাই।

কি কাজে এসেছি কি কাজে বা গেল
কে জানে কেমন কি খেলা হলো,
প্রবাহের বারি বহিতে কি পারি
যাই যাই কোথা কূল কি নাই।

করো হে চেতন যে আছো চেতন
কতদিনে আর ভাঙিবে স্বপন,
কে আছো চেতন ঘুমায়ও না আর
দারুণ এ ঘোর নিবিড় আঁধার,
করো তমোনাশ, হও হে প্রকাশ
তোমা বিনা আর নাহিকো উপায়
তব পদে তাই শরণ চাই।

 

দুর্গে দীনদুঃখহারিণী

জাগো মাগো,
দুর্গে দীনদুঃখহারিণী
শিবরাণী ভবভয়হারিণী,
জাগো মাগো হৃদয়ে
জয়তে জাগো জননী।

ওপারে দূরে বিপদসাগরে
দুর্গা, দুর্গা নাম বলো অভিরাম,
দয়াময়ী হরকরণী, হরভরণী।

রঞ্জিত-রাঙা চরণকমলে
মধুসাগর সতত উথালে,
প্রাণ সদা প্রিয় কুতুহলে
দূরে জাগে দুখরজনী।

 

দেখা দে মা

দেখা দে মা, দেখা দে,
দেখা দে মা, ও মা উমা
এই ছিলি কোথায় লুকালি,
মা ব’লে এসো মা উমা
মুছে ফেলি মনের কালি।

মা আমার ছিল না তেমন
স্বপ্নে কেন দেখলেম এমন,
চায় যেন গো কেমন-কেমন
কেন মা হয়েছে কালী।

হীরে মণি ভয় বাসি
উমা আমার শ্মশানবাসী,
উন্মাদিনী একি হাসি
দেখলাম যেন ছারকপালী।

কেন গো মা দিক-বসনা
কেন উমা শবাসনা,
ছিল না তো ত্রিনয়না
ছিল না তো মুণ্ডমালী।

 

ধেয়ে ধেয়ে ধেয়ে

ধেয়ে ধেয়ে ধেয়ে
নাচে কালো মেয়ে,
খেলে বিজলী লয়ে।

রাঙাচরণ রাজে গো, রাজে
ভ্রমর গুঞ্জরে, মধুর মঞ্জীর বাজে।

কালোরূপে শতরবিচ্ছটা
দোলে এলোকেশ নবঘনঘটা,
কি বা মৃদুহাসি ঊষামলিন লাজে
শ্যামা বনফুলহারে সাজে।

 

ফিরে চাও প্রেমিক সন্ন্যাসী

ফিরে চাও প্রেমিক সন্ন্যাসী
ঘুচাও ব্যথা কও না কথা,
কার প্রেমে হে উদাসী।

রয়েছ মত্ত ধ্যানে
তত্ত্ব তোমার কে জানে,
অনুরাগী শুধাই যোগী
প্রাণ দিলে কি লও হে আসি।

 

যাই গো, ওই বাজায় বাঁশি

যাই গো, ওই বাজায় বাঁশি
প্রাণ কেমন করে,
একলা এসে কদমতলায়
দাঁড়িয়ে আছে মোর তরে।

যত বাঁশরি বাজায়
তত পথপানে চাই,
পাগল বাঁশি ডাকে, ওগো রাই
না গেলে সে কেঁদে-কেঁদে,
চলে যাবে মানভরে।

 

যোগাসনে মহাধ্যানে

যোগাসনে মহাধ্যানে মগ্ন যোগীবর
অনন্ত তুষারে যেন অনন্ত শিখর।

প্রলয় নীরব মাঝে একাকী পুরুষ রাজে
ভয়ে অগ্নিভস্ম মেখে থাকে কলেবর।

শিশু শশী নাহি আর, অন্ধকার নিরাকার
এক নাহি দুই আর, প্রকৃতি নিথর।

কালোবদ্ধ বর্তমানে গোমকেশ গোমপানে
নিত্যসত্য পূর্ণজ্ঞানে পূর্ণ মহেশ্বর।

 

রাঙাজবা কে দিলো

রাঙাজবা কে দিলো তোর পায়
মুঠো মুঠো,
দে না মা সাধ হয়েছে
পরিয়ে দে না মাথায় দুটো।

মা ব’লে মা ডাকবো তোরে
হাততালি দে নাচবো ঘুরে,
দেখে তুই হাসবি কত
আবার বেঁধে দিবি মাথায় ঝুঁটো।

 

রাম-রহিম না জুদা করো

রাম-রহিম না জুদা করো
দিল কো সাচ্চা রাখো জী,
হাঁ জী, হাঁ জী করতে রহো
দুনিয়াদারি দেখো জী।

যব যায়সা, তব তায়সা হোয়ে
সদা মগন মে রহেনা জী,
মাট্টি মে ইয়ে বদন বনি হায়
ইয়াদ হরদম রাখনা জী,
কেয়া জানে কব দম ছুটেগা
উসকা নাহি ঠিকানা জী।

দুশমন তেরা সাথ ফিরতা
দেখো ভাই জো সাকো জী,
দুশমন সে বাঁচানেওয়ালে
উন বিন হায় নাহি কোই জী।

 

শিব যদি মা

শিব যদি মা তোমার স্বামী
লুটায় কেন পদতলে,
বুক পেতে দেয় ভয়ে-ভয়ে
চায় মা তোর মুখমণ্ডলে।

চরণদুটি মনোরমা
তাই বুকে কি নেছে, শ্যামা,
তোর আবার কি স্বামী উমা
মা তুমি, মা, সবাই বলে।

ধরা কাঁপে পদভরে
বাজে না কি বুকে ধ’রে,
নইলে বলো কেমন ক’রে
শিব ধরেছে হৃদকমলে।

 

হরি মন মজায়ে

হরি মন মজায়ে লুকালে কোথায়
ভবে আমি একা, দাও হে দেখা,
প্রাণসখা রাখো পায়।

কালোশশী বাজালে বাঁশি
ছিলেম গৃহবাসী করলে উদাসী,
কুল ছেড়ে আজ অকূলে ভাসি
আমার হৃদবিহারী কোথায় হরি,
পিপাসী মন তোমায় চায়।

 

হামা দে পালায়

হামা দে পালায়, পাছু ফিরে চায়
রাণী পাছে তোলে কোলে,
রাণী কুতূহলে, ‘ধরো-ধরো’ বলে
হামা টেনে তত গোপাল চলে।

পড়ে-পড়ে যায়, ধূলা লাগে গায়
আবার ওঠে, আবার পালায়,
মোছায়ে আঁচলে, রাণী করে কোলে
ব্রজের খেলায় পাষাণ গলায়।

 


মন্তব্যসমূহ