প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~তত্ত্বদর্শী~তত্ত্বদর্শী ॐ
শ্রীকৃষ্ণাষ্টকস্তোত্র
ভূমিকা:
শ্রীশঙ্করাচার্য অদ্বৈত বেদন্তদর্শনের শ্রেষ্ঠ ভাষাকার। তাঁর ৬৮৬ খ্রিস্টাব্দের (মন্তান্তরে ৭৮৮ খ্রি.) ১২ বৈশাখ শুক্লা জন্ম পঞ্চমী তিথিতে কেরালা প্রদেশের 'কালডি' নামক একটি স্মৃতি। তাঁর কাছে ছিলেন শিবগুরু এবং মাতা বিশেষা দেবী। শ্রীশঙ্করা চার্য সতন ধর্মের সকলের মত পথের পাশের প্রতীক। তাঁর রচনা দেব চিন্তায় আমরা অতীত ব্রহ্মকে অনেক কিছু পাই, ঈশ্বরের স্বগুণরূপ বিভিন্নতা এবং অবতারও স্তোত্রপাই। তিনি উপলব্ধি ঈশ্বরকে যে আমরা উপাসনা করি কেন তিনি এক এবং অদ্বিতীয়।
কৃষ্ণাষ্টক স্তোত্রে একই সাথে চিন্তার অতীত ব্রহ্ম, তাঁর পালন রূপ বিষ্ণু এবং সে বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে একই সাথে বন্দনা করেছেন। নিরাকার বাতাস যেমন দেখা যায় না, উপলব্ধি করা যায়; ঠিক একইভাবে চিন্তার অতীত ব্রহ্মই যখন আমি তার আদর্শ অনুসরণ করতে পারি, তখন আমরা তাকে দেখতে ছুঁতে পারি সেই দৃষ্টিগোচর করে সাধনজগতে অগ্রসর হতে পারি। তিনি সর্বভূতে বিরাজমান। এটা এমন নয় যে, তিনি পাঁচতলা, সাত, দশতলা আকাশের উপরে আছেন। অথবা তিনি যখন শান্তি, তখন তাঁর বসবাসের স্বর্গলোক খালি পরে থাকে। বা তিনি চেয়ার ওয়ান আমাদের প্রশাসন করেন, কিন্তু তিনি যখন অবরোধের জবাব দেন তখন তাঁর চেয়ারটি শূণ্যতার পরে। বিষয়গুলি এমন না, এ দৈব প্রস্তুতকারক দৈবীভাষা প্রমাণ করতে পারবেন না। তাঁর কৃয় হয়ত কিছু ঋষি মুনিরা জানতে পারেন, কিন্তু তিনি সকলের জ্ঞানার্জন করতে পারেন, নির্বিচ্ছন্ন সাধন এবং জন্মান্তরের সুকৃতির ফলাফল কোন অধিকারী হয় তাকে ব্যাখ্যা করতে পারে, এর নট নয়। সম্পূর্ণ তাকে জানা অসাধ্য। তিনি একজনই মহিলা এ বেদে তো আছেই, শ্রীশঙ্করাচার্যও অদ্বৈত বেন্তের প্রচারক দেখতে আমাদের অত্যন্ত সুন্দর করে মুসলিমদের বিভিন্ন রচনা। একই সত্ত্বার শুধুমাত্র প্রকাশ বিভিন্ন কারণে এ দৃশ্যমান ভিন্ন ভিন্ন কারণে মায়ার প্রভাবে বিভ্রান্ত আমরা প্রতিনিয়ত। উপাস্য রুচির বৈলের জন্য একই ব্রহ্ম চিত্র প্রকাশ রূপের প্রকাশ। আমরা এক পরমেশ্বর ছাড়া অন্য উপাসনা করি না। বেদে মন্ত্রে অত্যন্ত সুন্দর এবং বিভিন্ন করে বিষয়টা বলা হয়েছে : শ্রীশরাচার্যও অদ্বৈত বেদান্ত প্রচারক দেখতে আমাদের অত্যন্ত সুন্দর করে উচ্চারণে তাঁর বিভিন্ন রচনায়। একই সত্ত্বার শুধুমাত্র প্রকাশ বিভিন্ন কারণে এ দৃশ্যমান ভিন্ন ভিন্ন কারণে মায়ার প্রভাবে বিভ্রান্ত হতে আমরা প্রতিনিয়ত। উপাস্য রুচির বৈলের জন্য একই ব্রহ্ম চিত্র প্রকাশ রূপের প্রকাশ। আমরা এক পরমেশ্বর ছাড়া অন্য উপাসনা করি না। বেদে মন্ত্রে অত্যন্ত সুন্দর এবং বিভিন্ন করে বিষয়টা বলা হয়েছে : শ্রীশরাচার্যও অদ্বৈত বেদান্ত প্রচারক দেখতে আমাদের অত্যন্ত সুন্দর করে উচ্চারণে তাঁর বিভিন্ন রচনায়। একই সত্ত্বার শুধুমাত্র প্রকাশ বিভিন্ন কারণে এ দৃশ্যমান ভিন্ন ভিন্ন কারণে মায়ার প্রভাবে বিভ্রান্ত আমরা প্রতিনিয়ত। উপাস্য রুচির বৈলের জন্য একই ব্রহ্ম চিত্র প্রকাশ রূপের প্রকাশ। আমরা এক পরমেশ্বর ছাড়া অন্য উপাসনা করি না। বেদে মন্ত্রে অত্যন্ত সুন্দর এবং বিভিন্ন করে বিষয়টা বলা হয়েছে :
ইন্দ্রং মিত্রং বরুনমগ্নি-মাহু রথো
দিব্যঃ সুপর্ণো গরুত্মান।
একং সদ্বিপ্রধা অনেক বদিতি
অগ্নি যমং মাতরিশ্বানমাহুঃ।
(ঋগ্বেদ: ১.১৬৪.৪৬)
সে সদ্বস্তু অন্য পরব্রম এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু জ্ঞানী গণ তাঁকে ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, দিব্য (সূর্য), সুপর্ণ, গরুড়, যম, বায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন অভিহিত করে থাকেন।
ন দ্বিতীয় তৃতীয় নশ্চতুর্থো নাপুচ্যতে।
ন পঞ্চমো ন ষষ্ঠঃ সপ্তমো নাপুচ্যতে।
নাস্তমো নমোদমো নাপুচ্যতে।
য এতং দেবমেক বৃতং বেদ।
(অর্থবেদ:১৩.৪.২)
"পরমাত্মা এক, তিনি কে দ্বিতীয়, ভিন্ন, অতিরিক্ত, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম বাবদম ঈশ্বর বলে অভিহিত হয় না, তাঁহাকে শুধু বলে শুনে তিনি তাঁকে পেয়েছিলেন।"
সাকার বৈচিত্রময় স্বভাবে স্বভাবে তিনি একজন নিশ্চিন্তে এ তত্তিরীয় আরণ্যক বর্ণনামতে একটি শ্রুতি অত্যন্ত সুন্দর বর্ণনা করা হয়েছে।
তস্য শিক্ষায় পরমাত্মা ব্যস্থিতঃ।
ব্রহ্ম শিব স হরিঃ সোহক্ষরঃ পরম স্বরাট।
(তৈত্তিরীয় আরণ্যক:১০.১৩.১২)
তিনি ব্রহ্ম, তিনি শিব, তিনি হরি, তিনি ইন্দ্র। তিনি অক্ষর, স্বয়মদীপ্ত রাজা, তিনি জীবের শ্রেষ্ঠ।
বিভিন্ন রূপান্তর ভেদে আমরা মেরে উপাসনা, শাসক এ রূপ একইভাবে সামব্রাহিক সাংবিধানিক আমিনা বলেছি আমরা ম্প্রদায়িক শাস্ত্রীয় বিবাদে সমতুল্য অনাকাংগ।
শঙ্করাচার্য বিরচিত কৃষ্ণাষ্টক
শ্রিয়াশ্লিষ্টো বিষ্ণুঃ স্থিরচরগুরুবেদবিষয়ো
ধিয়াং সাক্ষী শুদ্ধো হরসুরহন্তাব্জনঃ।
গদী শঙ্খী চক্রী বিমলবনমা স্থিররুচিঃ
শরণ্যো লোকেশো মমভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ১
"শক্তি অলো শ্রীকে অলিঙ্গিত করে অভেদমূর্তি যে বিষ্ণুতে, চরাচর সকলের গুরু, বেদের খবরই প্রকাশ প্রতিপাদ্য বিষয়, চিন্তার সাক্ষী রূপ সর্বমন্তর্যামী, খুব অসুর বিনাশক, পদ্মকের রক্তিম যাঁ নর শঙ্খ, চক্র ও গদা ও বিবন যাঁমালা। উজ্জল দীপ্তি সর্বদা বিরাজমান। সর্বব্রহ্মাণ্ডের অনুষ্ঠান শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার ননগো হোন৷
ব্রহ্ম এবং তাঁর শক্তি অভেদ। চিন্তার অতীত ব্রহ্মই যখন কর্মশীল হয়ে কাজ করে তখন তাকে শক্তি বলে। আদি পুরুষ শ্রীবিষ্ণুর শক্তির নাম শ্রী বা লক্ষ্মী। বিষ্ণু এবং তৎশক্তি শ্রী অভেদ। যেমন, চন্দ্র এবং চন্দ্রের কিরণ, দুধ এবং দুধের ধবলতা অদ। স্তোত্রটির শুরু শুরু হবে শঙ্করাচার্য তাই আপাত দুইদেহ মনে করুন লক্ষ্মীনারায় অলিঙ্গিত অভেদমূর্তিকে বন্দনা করেছেন।
বেদাদি শাস্ত্রে বহুতেই ভগবানকে গুরু বা জগদগুরু বলা হয়েছে, কারণ সকল জ্ঞানের উৎস তিনি। জীবকে নির্দেশ করেছেন তিনি, সকলের জ্ঞানও তিনি, তাই তাকে বলা হয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবত সহ বিভিন্ন পুরাণ এবং যোগদর্শনে ভগবানকে গুরু বলে অবিহিত হতে আমরা সবাই জানি। যা ঠিক নয়। কেন শাস্ত্রে ভগবানকে জগগুরু বলে অবিহিত করা হয়েছে, তাই অন্যের ক্ষেত্রে শব্দটি প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।
বেদের সকলের জ্ঞানের প্রতিপাদ্য বিষয় ভগবান। ঋষিদের ধলব্ধ বেদি আমাদের ঈশ্বরকে এবং তাঁর পথকে মুক্তি দেয়। কারণ, বেদের প্রতিপাদ্য বিষয় ভগবান। বেদের জ্ঞান হল চারপ্রকার বাকের মধ্যে পশ্যন্তি বাক। এর ঊর্ধ্বে অপরাধ বাক আছে যাকে পরা বাক বলা হয়। এ পরা বাক ব্লাক্ত করা যায় না, তাই এ বাক অবমানসগোচর। সাধক ধনের গভীরে শুধু এ বাকরূপ ব্রহ্মকে উপলব্ধি করে ভূমানন্দ লাভ করে।
যতঃ সর্বং বিয়দনীল মুখ্যং জগদিম
স্থৌ নিঃশেষং যোঽবতি নিজসুখ অংশেন মধুহা ।
লয়ে সর্বং স্বস্মিন্ হরতি কল্যা যস্তু স বিভুঃ
শরণ্যো লোকেশো মমভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ॥২॥
"সৃষ্টি কালে আকাশ ও বায়ুমণ্ডল সহ সমগ্র জগৎ যার ফলশ্রুতি হয়েছে। স্থায়ী কাল আনন্দময় অংশের দ্বারা অনন্তব্রহ্মা পালন করেন। মধুদৈত্যকে বিনাশ করেছেন প্রলয় কাল আপনাতে সকল বিলীন করেন।"
পরমেশ্বর প্রস্তুতির কারণ। এক নিমিত্ত কারণ, দুই উপাদান কারণ। নিমিত্ত কারণ মনে, এয়ার সুগঠিত সুসংবাদতার তালিকা যে চেতন সত্ত্বা; সেই জ্ঞানদীপ চেতন সত্ত্বাই হল ঈশ্বরের শক্তি। উপকরণ কারণটি হল, প্রস্তুতির নিয়মটি জড়, চেতন পৃথক উপাদানই তিনি। তিনি ছাড়া আর কিছু নেই। একটি মাটির হাড়ি তৈরি করতে কুমারও তিনি; মাটি, জল, চাকাও তিনি ; আবার কুমারের মাটির হাড়ি তৈরির ইচ্ছাও তিনি। ঈশ্বরের মধ্যে এমন করার ইচ্ছা জাগে, তাকে সিসৃষ্টি বলে। স্থান বাসনা করা তিনি খুব হন। গতিপথ আকাশ ও বায়ুমণ্ডল সহ সমগ্র জগৎ তাঁর বিস্তার সম্পন্ন হয়। আবার প্রলয় কালে তাঁর শরীরেই সুপ্তাবস্থা থাকে। স্থায়ী কালে আনন্দময় অংশের দ্বারা তিনি অনন্তব্রহ্ম পালন করেন, লীলা বলা হয়। তাঁর চাওয়া পাওয়ার পাওয়ার নেই, তাই লীলাবিলাশে একটি শিশু গত শিশু হওয়া আনমনে তিনি নিয়ে খেলছেন।
আসুরিক শক্তি ভগবানের বাইরে নয়। তিনিই সকল শক্তির উৎস। তিনিই জীবকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন, এ স্বাধীনতা পেয়ে কোন জীব যদি আসুরিক ভাবাপন্ন হয়ে যায় তখন ভগবান লোকশিক্ষার জন্যে তাদের বধ করেন। মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে, মধু এবং কৈটভ নামক দৈত্য দুইভাইকে বধ করেন। তাই তাঁর নাম হয় মধুসূদন। ভগবানের কোন শত্রু মিত্র নেই। সকল জীবই তাঁর সৃষ্ট। তিনি দ্রষ্টাপুরুষ। এ প্রসঙ্গে ঋগ্বেদে বলা হয়েছে:
দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া
সমানং বৃক্ষং পরিষস্বজাতে।
তরোরন্যঃ পিপ্পলং স্বাদত্ত্যনশ্নন্ন
ন্যো অভিচাকশীতি।।
(ঋগ্বেদ:১.১৬৪.২০)
"সুন্দর পাখাবিশিষ্ট সমান সমন্ধযুক্ত দুটি পাখি মিত্ররূপে একটি গাছে আশ্রয় করে আছে। তাদের মধ্যে একটি পাখি বৃক্ষের বিভিন্ন স্বাদের ফল খেয়ে চলছে এবং অন্য পাখিটি শুধুমাত্র দেখছে।"
এই বৃক্ষটিতে অবস্থিত পাখিদুটির মত আমাদের একইদেহে জীবাত্মা এবং পরমাত্মা বিরাজিত। ইচ্ছার স্বাধীনতা পাওয়া জীবাত্মাটি কর্ম অনুসারে কর্মফল ভোগ করে সুধু। এ কর্মের সুকৃতির ফলে দেবতুল্য হয় এবং দুষ্কর্মের ফলে অসুর হয়। সুর এবং অসুর জীবের কর্মের মধ্যে, যে যে পথকে বেঁছে নেয়।
ঈশ্বরের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ভাল-মন্দ, পজিটিভ নেগেটিভ সকল শক্তির উৎসই তিনি। ব্যক্তির ইচ্ছার স্বাধীনতা সাত্ত্বিক, রাজসিক এবং তামসিক গুণভেদেই শুভ অশুভের উৎপত্তি। কিন্তু পৃথিবীর অনেক জাতিই বিশ্বাস করে ভালোর জগতের একজন ঈশ্বর; খারাপ জগতের আরেকজন ঈশ্বরের কনসেপ্ট। রেললাইনের মত সমান্তরালভাবে চলছে তাদের দুই ঈশ্বরের শুভ অশুভের রাজত্ব।
অসূনায়ম্যাদৌ যমনিয়মমুখ্যৈঃ সুকরণৈ-
র্নিরুদ্ধ্যেদং চিত্তং হৃদি বিলয়মানীয় সকলম্ ।
যমীড্যং পশ্যন্তি প্রবরমতয়ো মায়িনমসৌ
শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ॥ ৩
"শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীগণ প্রাণসংযম করে, যমনিয়মাদি যোগের সাধন করে, ইন্দ্রিয়কে নিরোধ করে, চিত্ত বিলীন করে, নিজ হৃদয়ে লোকপূজ্য মায়াময় বিষ্ণুকে দর্শন করেন।যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।"
যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি- এই আটটি হলো যোগের অঙ্গ। এ প্রসঙ্গে মহর্ষি পতঞ্জলি তাঁর 'যোগসূত্র' গ্রন্থে বলেছেন:
যমনিয়মাসনপ্রাণায়ামপ্রত্যাহার
ধারণাধ্যানসমাধয়োহষ্টাবঙ্গানি
(যোগসূত্র : ২.২৯)
অষ্ট যোগের অঙ্গকে অবলম্বন করে পঞ্চকর্মেন্দ্রিয় পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়কে সংযত করে চিত্তকে বিলীন করতে পারলেই সাধক নিজ হৃদয়ে মায়াময় শ্রীবিষ্ণুকে দর্শন করে। ভগবান মায়া শক্তি দ্বারাই এ জগতকে পরিচালনা করেন। ঋগ্বেদেও ইন্দ্ররূপি পরমেশ্বরের মায়াশক্তির কথা বর্ণিত আছে। এ মায়াতেই জীব বদ্ধ হয়, আবার এ মায়াতেই জীব মুক্ত হয়।
পৃথিব্যাং তিষ্ঠন্ যো যময়তি মহীং বেদ ন ধরা
যমিত্যাদৌ বেদো বদতি জগতামীশমমলম্ ।
নিয়ন্তারং ধ্যেয়ং মুনিসুরনৃণাং মোক্ষদমসৌ শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ॥৪
"পৃথিবীতে থেকেও যিনি মহীমণ্ডল পরিচালনা করেন, কিন্তু পৃথিবী যাঁকে জানতে পারে না এ তত্ত্বটি "যঃ পৃথিব্যাং তিষ্ঠন্ পৃথিবীং যমপতি যং পৃথিবী ন বেদ" ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যে (বৃহদারণ্যক) বর্ণিত।যিনি জগতের অধীশ্বর, সর্বপ্রকার দোষশূন্য অমল। যিনি সকলের একমাত্র নিয়ন্তা। সিদ্ধ মুনিগণ, দেবগণ ও রাজগণ যাকে নিয়ত ধ্যান করেন। যিনি সকলের মোক্ষদাতা।যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।"
ভগবান জগতের প্রত্যেকটি অনু-পরমানুতে আছেন,জগতকে পরিচালনা করেন, আবার প্রয়োজন হলে লোককল্যাণে তাঁর মায়াশক্তির দ্বারা অবতীর্ণ হন ভুতলে। কিন্তু তিনি অচিন্তনীয়। আমরা যা চিন্তা করব, তাই মিথ্যা হয়ে যাবে। শুধু সাধকের হিতার্থে বিভিন্ন প্রতীকে বিভিন্ন মূর্তিতে আমরা তাঁর পথে অগ্রসর হই। এ ইন্দ্রিয়গুলিকে পরিচালিত করেন তিনি, কিন্তু এ ইন্দ্রিয়গুলো কখনই তাকে সম্পূর্ণভাবে জানতে পারে না। ভগবান নিজের গীতাতে বলেছেন, তিনি তাঁর একাংশ দ্বারাই এ জগতকে ধারণ করে আছেন। অর্থাৎ তিনি সীমার থেকেও অসীম। হৃদয় যত নিষ্পাপ অপাপবিব্ধ হয়, ততই তিনি ধরা দেন। সিদ্ধ মুনিগণ, দেবগণ ও রাজগণ তাঁকে নিয়ত ধ্যান করেন, কারণ তিনিই সকলের মোক্ষদাতা পরমেশ্বর।
মহেন্দ্রাদির্দেবো জয়তি দিতিজান্ যস্য বলতো
ন কস্য স্বাতন্ত্র্যং ক্বচিদপি কৃতৌ যৎকৃতিমৃতে ।
কবিত্বাদের্গর্বং পরিহরতি য়োঽসৌ বিজয়িনঃ
শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ॥ ৫
"মহেন্দ্রাদি দেবগণ যাঁর শক্তিতেই দানবদিগকে পরাজিত করেন, যাঁর শক্তির ব্যতিরেকে কারও কোন স্বাতন্ত্র্য নেই, যার শক্তিসাহায্য ভিন্ন জগতে কোন কার্য্যই স্বাধীনভাবে সম্পন্ন হয় না, যিনি অহংকারী পণ্ডিতবর্গের কবিত্বাভিমান এবং গর্বিত দিগ্বিজয়কারীদের সকল গর্ব হরণ করেন।যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।"
কেন উপনিষদে হৈমবতী উপাখ্যানে আছে, যে একবার অসুরবিজয়ে দেবতাদের অহংকার জন্মে। পরে ব্রহ্ম এক জ্যোতির্ময় মূর্তিতে উপস্থিত হয়ে মহেন্দ্রাদি দেবগণের দ্বৈতবোধকে অপনোদন করে অভেদ জ্ঞান দান করেন। দেবতাদের শক্তি আদতে ব্রহ্মেরই শক্তি। দেবতারা ব্রহ্মের শক্তির প্রকাশ মাত্র। আলাদা কিছুই নয়। এ কারণেই ঋগ্বেদে ইন্দ্র বলতে কোন সাধারণ দেবতা নয়, ইন্দ্ররূপী পরমেশ্বরই বর্ণনা করা হয়েছে।
আমরা পূর্বেই বলেছি প্রত্যেকটি জীবের ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে, আবার এ শ্লোকে বলা আছে,
"যাঁর শক্তির ব্যতিরেকে কারও কোন স্বাতন্ত্র্য নেই, যার শক্তিসাহায্য ভিন্ন জগতে কোন কার্য্যই স্বাধীনভাবে সম্পন্ন হয় না।"- এ দুটি তত্ত্ব আপাত পরস্পরবিরোধী হয়। কিন্তু পরস্পরবিরোধী নয়। এর সমাধানে বলা যায়, প্রত্যেকটি জীবকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেয়া আছে ঠিক, সে অনুযায়ী সে সাত্ত্বিক, রাজসিক এবং তামসিক কর্ম করে পাপপুণ্যের জালে জড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে ঈশ্বর হলেন দ্রষ্টাপুরুষ বা সাক্ষী। কিন্তু ইচ্ছার স্বাধীনতার ফলে যে উৎপন্ন কর্মফল, সে কর্মফল তাকে ভোগ করতেই হবে। এর হাত থেকে মুক্তি নেই। এ কর্মফলের দাতাই হলেন ভগবান। জীবের কর্মের উপরে হাত আছে, নিয়ন্ত্রণ আছে স্বাধীনতা আছে। কিন্তু কর্মফলের উপরে হাত নেই। তাই শ্রীশঙ্করাচার্য বলেছেন, একজন দুর্বিনীত অহংকারী পণ্ডিতের কবিত্বাভিমান অথবা একজন গর্বিত দিগ্বিজয়কারী রাজার সকল শক্তির উৎসই ভগবান। শক্তিতে গর্বিত মদমত্ত হলে নিমেষেই তা চলে যেতে পারে।
বিনা যস্য ধ্যানং ব্রজতি পশুতাং সূকরমুখাং
বিনা যস্য জ্ঞানং জনিমৃতিভয়ং যাতি জনতা ।
বিনা যস্য স্মৃত্যা কৃমিশতজনিং যাতি স বিভুঃ
শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ॥৬
"যে পরমেশ্বরকে ধ্যান না করলে জীব শূকরাদি পশুত্বপ্রাপ্ত হয়, যাঁর জ্ঞান ব্যতিরেকে জীব জন্ম-মৃত্যুর ভয়ে বশীভূত হয়ে থাকে, যাঁকে স্মরণ না করিলে প্রাণিগণ শত শত কৃমিযোনি প্রাপ্ত হয়। যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।"
পরমেশ্বরের সাথে যুক্ত স্থায়ী অবস্থা মুখ্য। আমরা নামজপ, কীর্তন, পূজা, উপাসনা, শাস্ত্রধারা, ধ্যান বিভিন্নভাবে ভগবানের সাথে যুক্ত হতে পারি। তবে এর মধ্যে ধ্যান একটি উত্তম পাও। কারণ ঋষি মুনিরা সেহে অবলম্বনই জ্ঞান লাভ করে। তাই ভবান শ্রীহরিকে সর্বদা উপস্থিত করতে হবে। ধ্যান, ব্যাগ বা নামজপে হৃদয়ের মধ্যে একটি গানের জন্ম হবে। এ তথ্য জানানো হয় সমাধি। আর সমাধি পাওয়া যায় আনন্দময় ভগবানকে, তখন আর জীবের মৃত্যুভয় থাকে না। এবং তখন জন্মান্তরের বন্ধনও দেখা যায়। জীবের চুরাশিলক্ষ জন্মের ফলে মনুষ্য জন্ম হয়। মনুষ্যজন্মে ঈশ্বর প্রাপ্তি সহজ। কিন্তু যদি সেই মনুষ্যজন্ম স্বার্থক আমরা ঈশ্বরের পথ অগ্রসর না হই, তবে মনুষ্য্ম বড়থা হয়ে অন্ধকারের অগ্রসর হয়৷
নরতাঙ্কোত্তঙ্কঃ শরণশরণো ভ্রান্তিহরণো
নগ্নশ্যামো রামো ব্রজশিশুবয়স্যোৎর্জুনসখঃ।
স্বয়ম্ভূর্ভূতনাং যোগ্য হওয়া চারসুখঃ
শরণ্যো লোকেশো মভতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ॥৭
"যিনি ভীতিহরণ করেন। শর্নাগতদের গ্রহণের স্থান। উত্থাপনের সকলের ভ্রান্তি। আপনি যীনি প্রকাশের মধ্যম শব্দে শ্যামবর্ণের মেঘের রংম্ভানি রাম অবতীর্ণ্য, সর্নাগত স্বাবালদের পুরানো, জর্জ্য সুচর্নাগত সখান, জগৎ স্বাগতিক সখান, জগদ্ধাত্রী স্বয়ংসম্পূর্ণ।" যথোচিত সুখপ্রদানকারী।যিনি ব্রহ্মাণ্ডের ভোগ শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন৷
ভগবান তাঁর শরণাগত ভক্তের সকল ভীতি হরণ করেন। আমরা ভক্তরা প্রহ্লাদের সম্পর্কে জেনেছি, আমরা যাঁকে দেখতে চাই, এমন প্রতিকূল দেখা ভগবানই ছিল সম্পূর্ণ৷ সেই ভগবান শ্রীহরি প্রহ্লাদকে অনুসরণ করতে তাঁর বাবা হিরণ্যশিপুকে ব্রহ্মমার বরদানের নৃসিংহদেব সম্পূর্ণ আবির্ভূত হওয়া ভক্ত প্রলাদকে ওপারে।
এ জগত একটি বৃহত্তম মহিমান্বিত নকশা। ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই এ নকশাটি ক্রিয়াশীল। ঈশ্বরই জগতের সকল ভ্রান্তিহরণ করে মহাকালের বৃত্তাকার গতিপথকে সচল রাখনে। তিনি আকাশে মেঘের মত অনন্ত, তাই তার গায়ের বর্ণ শ্যাম।
বিভিন্ন অবতার রূপে তিনি জগতকে রক্ষা করেছেন এরমধ্যে শ্যাম এবং রাম অবতার প্রধানতম। তাই এ দুই অবতারকেই প্রধানত আমরা পূজা করি। অন্য সকল অবতার কোন একটি বিশেষ নিদিষ্ট করনীয় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু রাম শ্যাম অবতারে মানব জীবনের পারিবারিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে নিজে আচরণ করে লোকশিক্ষা দিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাই তাঁরা ভারতবর্ষীয় সংস্কৃতির দুই কেন্দ্রীয় পুরুষ।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন ধর্ম, ন্যায় এবং কর্তব্য পালনের এক জাজ্বল্যমানতার পরাকাষ্ঠা। তাই তিনি সকল মানবের আদর্শ, মর্যাদা পুরুষোত্তম। তিনি পিতৃসত্য রক্ষার জন্যে চৌদ্দবছর বনবাস সহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধর্ম পালনে ছিলেন আপোষহীন। সাধু সজ্জনের কাছে তিনি ছিলেন কুসুমের মত কোমল, আবার দুর্জ্জন অধর্মের বিনাশে তিনি নির্মম বজ্রধর । রামায়ণের অসংখ্য স্থানে ধর্মের মাহাত্ম্য এবং অধর্মকে বিনাশ করে ধর্মের শরণে থাকার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এ জগতে ধর্মই প্রকৃত সারবস্তু। তাই ধর্মের শরণে থাকার চেষ্টা আমৃত্যু করা উচিত। রাম শব্দের অর্থ আনন্দ। রাম ভগবানের আনন্দময় প্রকাশ।
স্বয়ম্ভু জগতপিতা হয়েও ভগবান নিজ ইচ্ছাবশে লীলা পুরুষোত্তম রূপে ব্রজবালকদের ও অর্জুনের
মত সুআচরণকারীদের আনন্দ দান করেছেন এবং তাদের সাথে বন্ধুর মত মিশেছেন।
যদা ধর্মগ্লানির্ভবতি জগতাং ক্ষোভকরণী
তদা লোকস্বামী প্রকটিতবপুঃ সেতুধৃগজঃ ।
সতাং ধাতা স্বচ্ছো নিগমগণগীতো ব্রজপতি শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ॥ ৮
"যখন যখন ধর্মের গ্লানি উপস্থিত হয়ে জগতে ক্ষোভের উৎপত্তি হয়েছে, জন্মরহিত হয়েও যিনি লোকনায়করূপে আবির্ভূত হয়ে ধর্মকে রক্ষা করেছেন। যিনি অবিনশ্বর, জগতের বিধানকর্তা, যিনি সর্বপ্রকার বিকারশূন্য শুদ্ধ স্বচ্ছ, বেদাদি শাস্ত্রে যাঁর গুণগানই বর্ণিত আছে, যিনি ব্রজপতি।যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।"
"যদা ধর্মগ্লানির্ভবতি" এ বাক্যটি শ্রীমদ্ভগবদগীতা থেকে নেয়া। সেখানে ভগবান সুস্পষ্টভাবে বলেছেন:
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।
(গীতা:৪.৭-৮)
“যখন যখনই ধর্মের গ্লানি হয়ে অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে সৃষ্টি করি, অর্থাৎ সাকাররূপে অবতীর্ণ হয়ে জনসমক্ষে প্রকটিত হই। এভাবেই যুগে যুগে সাধুদের পরিত্রাণ করি এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করি।"
লোকনায়করূপে অবতীর্ণ হয়ে ভগবান অধর্মের বিনাশ করে ধর্মের সংস্থাপন করেন।তিনিই এ জগতের মূলাধার। বেদাদি সকল শাস্ত্রে এ অচিন্ত্য পরমেশ্বরেরই মাহাত্ম্যগীত বর্ণিত আছে। সংগীত ভগবানে অত্যন্ত প্রিয়, তাই এটি সাধনার একটি অঙ্গ। নামদেব, তুকারাম, নরসিং মেহতা, মীরা বাই, সাধক রামপ্রসাদ, কমলাকান্ত প্রভৃতি অনেক বড় সাধকেরা সংগীতের মাধ্যমেই ভগবানের উপাসনা করে ভগবানের দর্শন পেয়েছেন। গীতার মধ্যে আছে, "বেদানাং সামবেদোঽস্মি"-(১০.২২)। বেদের মধ্যে স্বরগীত সহ গেয় সামগান ভগবানের প্রিয়। এ সামগানগুলির মধ্যে বৃহৎসাম নামে একটি গীতি আছে যেখানে ইন্দ্ররূপি পরমেশ্বরের স্তুতি করা আছে সেই গীতগুলিকে ভগবান তাঁর বিভূতি বলে গীতাতে জানিয়েছেন-" বৃহৎসাম তথা সাম্নাং"(১০.৩৫)। অর্থাৎ সামবেদের মধ্যে তিনি গীতযোগ্য বৃহৎসাম।
ইতি হরিরখিলাত্মারাধিতঃ শঙ্করেণ
শ্রুতিবিশদগুণোঽসৌ মাতৃমোক্ষার্থমাদ্যঃ ।
যতিবরনিকটে শ্রীযুক্ত আবির্বভূব
স্বগুণবৃত উদারঃ শঙ্খচক্রাব্জহস্তঃ ॥ ৯॥
"এভাবে শ্রীশঙ্করাচার্য মাক্ষের জন্য তাঁর মায়ের পরমেশ্বর শ্রুতিবর্ণিত গুণসম্পন্ন স্তোর দ্বারা আদি শ্রীহরির আরাধনা, তিনি দেহধারণপূর্বক সাকার রূপ পরিগ্রহ করে শঙ্খ, চক্র, গদা, গদা, শ্রী শ্রী লক্ষ্মীদেবীকে নিয়ে যত পদীরাজের আধিকার শেষ করেছেন।"
শঙ্করাচার্য তাঁর সন্ন্যাস কালে মাকে কথা দিয়েছিলেন তিনি যেখানে থাকবেন আমেরিকা অন্তিমকালে উপস্থিত হবেন। তিনি তাঁর কথা। মা বিশেষা দেবীর অন্তিমকালে উপস্থিত হওয়া মাকে তাঁর আরাধ্য গৃহদেবতা শ্রীহরিকে দর্শন করান। শঙ্করাচার্যের শ্রুতিবর্ণিত গুণসম্পন্ন অষ্টশ্লোকে প্রসন্ন হওয়া ভগবান নারায়ণ লক্ষ্মীদেবী শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম হাতে চতুর্ভুজ মূর্ত্তি শঙ্করাচার্যের শ্যাশা মৃত্যু পথনিত্রী সম্মুখে আবির্ভূত হন। স্তোত্রের বারবার শ্রুতির কথা বলা হয়েছে।
শ্রীশঙ্করাচার্য শ্রুতি প্রতিপন্ন ভাষা ছন্দ ব্যবহার করে ভগবানকে আকর্ষণ করেছেন। ভগবানও দর্শন দিয়েছেন। এ স্তোত্রটিতে প্রত্যেকটি শ্লোকের শেষে ধ্রুবপদ হিসেবে একটি পাদ বারবার আবর্তিত হয়েছে। এ পাদটিই এ স্তোত্রের মূল শক্তি।শরণ্যো লোকেশো মম ভবতু কৃষ্ণোঽক্ষিবিষয়ঃ ; অর্থাৎ যিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র শরণ্য ঈশ্বর, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দয়া করে আমার নয়নগোচর হোন।ডাকার মত ডাকতে পারলে ভগবান যে আসেন, থাকেন, কৃপা করেন এবং ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন এর অনেক উদাহরণ আমরা শাস্ত্রে পাই। এ স্তোত্রটিও তেমনি একটি উদাহরণ। ভাবতে অবাক লাগে শঙ্করাচার্য কত বড় একজন ভক্ত ছিলেন যে, যাঁর অষ্টশ্লোকের দৈবী আহ্বানে ভগবানও দর্শন দিয়ে তাঁর মাকে মুক্ত করেছেন।
ইতি কৃষ্ণাষ্টকং সম্পূর্ণ ॥
কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক,
সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
.jpg)
মন্তব্যসমূহ