নিজস্ব প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~TatwaDarshi~तत्त्वदर्शी ॐ
শ্রীশঙ্করাচার্যকৃত শ্রীগঙ্গাস্তোত্র
![]() |
| গঙ্গা মা ( কুশল স্যারের পেজ থেকে নেওয়া) |
দেবি সুরেশ্বরি ভগবতি গঙ্গে
ত্রিভুবনতারিণি তরলতরঙ্গে ।
শঙ্করমৌলিবিহারিণি বিমলে
মম মতিরাস্তাং তব পদ কমলে ॥ ১
" হে দেবী, হে সুরেশ্বরী, হে ভগবতী, ত্রিভুবনতারিণী, তরলতরঙ্গে গঙ্গে! তুমি শিবশিরোবাসীনি, তোমাতে কোন মলিনতা নেই। দেবী গঙ্গে ! তোমার শ্রীপাদপদ্মে আমার মতি হোক।"
ভাগিরথি সুখদায়িনি মাতস্তব জলমহিমা নিগমে খ্যাতঃ।
নাহং জানে তব মহিমানং পাহি কৃপাময়ি মামজ্ঞানম্॥২
" ভাগীরথ তোমাকে স্বর্গ থেকে ভূতলে এনেছে, হে মা তুমি ভগীরথসহ সকল জীবের সুখপ্রদাত্রী। তোমার জলের মহিমা বেদে বর্ণিত। অথচ আমি তোমার মহিমা সম্যকরূপে জানি না। হে কৃপাময়ী মা! আমি অজ্ঞানে আচ্ছন্ন আমাকে উদ্ধার কর।"
হরিপাদপদ্মবিহারিণি গঙ্গে হিমবিধুমুক্তাধবলতরঙ্গে ।
দূরীকুরু মম দুষ্কৃতিভারং কুরু কৃপয়া ভবসাগরপারম্॥৩
" হে গঙ্গে! তুমি শ্রীহরির পাদপদ্মসম্ভূতা নদী। তোমার তরঙ্গ সকল হিমরাশি, চন্দ্র ও মুক্তার ন্যায় শ্বেতবর্ণ। হে কৃপাময়ী তুমি আমার সকল দুষ্কর্মজাত পাপরাশি বিদূরিত করে আমাকে সংসারসমুদ্র পারে নিয়ে যাও।"
তব জলমমলং য়েন নিপীতং
পরমপদং খলু তেন গৃহীতম্।
মাতর্গঙ্গে ত্বয়ি য়ো ভক্তঃ
কিল তং দ্রষ্টুং ন য়মঃ শক্তঃ ॥ ৪
" হে মাতা গঙ্গে! যে ব্যক্তি তোমার নির্মল জল পান করেছে সে মুক্তিরূপ পরমপদ পেয়েছে। যে মনুষ্য তোমাকে সর্বদা ভক্তি করে, যমরাজ কদাচ তাঁকে দর্শন করতে পারে না। অর্থাৎ তোমার ভক্তগণের যমরাজেরও কোন আধিপত্য নেই, তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করে।"
পতিতোদ্ধারিণি জাহ্নবি গঙ্গে
খণ্ডিতগিরিবরমণ্ডিতভঙ্গে ।
ভীষ্ম জননি হে মুনিবরকন্যে
পতিতনিবারিণি ত্রিভুবনধন্যে ॥ ৫
" হে দেবী গঙ্গে! তুমি পতিত জনকে পরিত্রাণ কর, পর্বতপতি হিমালয় তোমার স্রোতের বেগে বিদীর্ণ হয়ে তোমার স্রোতস্বিনী তরঙ্গগতিকে অপূর্ব ভঙ্গিতে অলংকৃত করছে। তুমি ভীষ্মের জননী এবং জহ্নুমুনির কন্যা। এ ত্রিভুবনে তোমার অপেক্ষা নরক থেকে উদ্ধারকারিণী আর কেউ নেই।"
কল্পলতামিব ফলদাং লোকে
প্রণমতি য়স্ত্বাং ন পততি শোকে ।
পারাবারবিহারিণি গঙ্গে
সুরবনিতাকৃততরলাপাঙ্গে ॥ ৬
" হে দেবী! তুমি কল্পতরুর ন্যায় ফল প্রদান কর, অর্থাৎ ভক্তবৃন্দ তোমার নিকট যা কামনা করে, তুমি তাই প্রদান কর। যে তোমাকে ভক্তির সাথে সদা প্রণাম করে, সে কখনও শোকে পতিত হয় না। তুমি হিমালয় থেকে সকল পথ অতিক্রম করে পরিশেষে সমুদ্রের সাথে মিলিত হয়ে সমুদ্রের সাথে বিহার কর। তাই সুররমণীগণ চঞ্চল কটাক্ষে তোমাকে দর্শন করে।"
তব কৃপয়া চেৎ স্রোতঃস্নাতঃ
পুনরপি জঠরে সো পি ন জাতঃ।
নরকনিবারিণি জাহ্নবি গঙ্গে
কলুষবিনাশিনি মহিমোত্তুঙ্গে ॥ ৭
" হে নরকনিবারিণী গঙ্গে! যে ব্যক্তি তোমার জলে স্নান করেছে সে নরকের হাত থেকে মুক্ত হয়। পুনরায় আর তাঁর জননী জঠরে প্রবেশ করতে হয় না। হে জাহ্নবী! তোমার ভক্তগণের সকল পাপরাশি বিনষ্ট হয়। তবে তোমার নিগুঢ় মাহাত্ম্য সকলেই জানতে পারে না।"
পুনরসদঙ্গে পুণ্যতরঙ্গে জয় জয় জাহ্নবি করুণাপাঙ্গে ।
ইন্দ্রমুকুটমণিরাজিতচরণে সুখদে শুভদে সেবকশরণ্যে ॥৮
" হে দেবী! তোমার কৃপায় জীব জন্মজন্মান্তর থেকে মুক্ত হয়ে মুক্তি পায়। অত্যন্ত পুণ্যময় তোমার তরঙ্গসকল। করুণাকটাক্ষপ্রদাত্রী হে জাহ্নবী! তোমার জয় হোক, তোমার জয় হোক। তোমার চরণ দেবরাজ ইন্দ্রের মুকুটমণির দ্বারা শোভা পাচ্ছে। তুমি সকলকে সুখ ও শুভ প্রদান কর। হে মাতা! সেবকজনের আশ্রয়, অর্থাৎ যে তোমার শরণ নেয়, তুমি তাঁকেই আশ্রয় প্রদান কর।"
রোগং শোকং তাপং পাপং
হর মে ভগবতি কুমতি কলাপম্ ।
ত্রিভুবনসারে বসুধাহারে
ত্বমসি গতির্মম খলু সংসারে ॥ ৯
"হে ভগবতী! তুমি ভক্তগণের রোগ, শোক, পাপ, তাপ ও সকল কুমতি হরণ কর। তুমি ত্রিলোকের সারভূতা ও পৃথিবীর হারস্বরূপে বিদ্যমান আছ। হে দেবী! এ সংসারে একমাত্র তুমিই আমার গতি, অর্থাৎ আমি কেবল তোমারই শরণ নিলাম।"
অলকানন্দে পরমানন্দে কুরু করুণাময়ি কাতরবন্দ্যে ।
তব তট নিকটে য়স্য নিবাসঃ খলু বৈকুণ্ঠে তস্য বিলাসঃ।।১০
" হে দেবী! তুমি অলকানন্দা এবং তুমি পরমানন্দস্বরূপা; লোকে কাতর হয়ে তোমাকেই বন্দনা করে। হে করুণাময়ী! তুমি আমাকে কৃপা কর। যে ব্যক্তি তোমার তটের সন্নিকটে বাস করে, অন্তকালে তাঁর বৈকুণ্ঠে বাস হয়।"
বরমিহ নীরে কমঠো মীনঃ কিংবা তীরে শরটঃ ক্ষীণঃ ।
অথবা গব্যূতিদীনঃ শ্বপচো ন চ তব দূরে নৃপতিকুলীনঃ ॥ ১১
" হে দেবী ! তোমার জলে কচ্ছপ, মাছ অথবা তোমার তীরে ক্ষীণকায় সামান্য গিরগিটি হয়েও বসবাস করতে চাই। এমনকি তোমার তীর হতে দুই ক্রোশের মধ্যে অতি দীন চণ্ডালকুলে জন্মপরিগ্রহ করাও সৌভাগ্যের। তথাপি তোমার থেকে দূরদেশে শ্রেষ্ঠ রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করার বাসনা করি না।"
ভো ভুবনেশ্বরি পুণ্যে ধন্যে
দেবি দ্রবময়ি মুনিবরকন্যে ।
গঙ্গাস্তবমিমমমলং নিত্যং
পঠতি নরো য়ঃ স জয়তি সত্যম্ ॥ ১২
" হে দেবী! তুমি ত্রিভুবনের ঈশ্বরী, তুমি পুণ্যস্বরূপা, তোমার থেকে শ্রেষ্ঠ কেউ নেই। তুমি জলরূপ দ্রব্যময়ী ও জহ্নু মুনির কন্যা। যে মনুষ্য প্রত্যহ এই গঙ্গাস্তর পাঠ করে, সে নিশ্চয়ই সকল বিষয়ে জয় লাভ করে।"
য়েষাং হৃদয়ে গঙ্গা ভক্তিস্তেষাং
ভবতি সদা সুখমুক্তিঃ ।
মধুরমনোহরপঞ্ঝটিকাভিঃ
পরমানন্দকলিত ললিতাভিঃ।।১৩
গঙ্গাস্তোত্রমিদং ভবসারং
বাঞ্ছিতফলদং বিগলিতভারম্।
শঙ্করসেবক-শঙ্কররচিতং
পঠতু চ বিষয়ীদমিতি সমাপ্তম্ ॥ ১৪॥
॥ শ্রীমচ্ছঙ্করাচার্যবিরচিতং গঙ্গাস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥
"যাঁর হৃদয়ে অচলা গঙ্গাভক্তি রয়েছ, সে নিয়ত সুখ ভোগ করে এবং দেহান্তে মুক্তিলাভ করে। মধুর, মনোহর ও কোমল পজ্ঝটকা ছন্দে বিরচিত এই গঙ্গাস্তব পরমানন্দপ্রদ ও অতি সুললিত।
এ গঙ্গাস্তব অসার সংসার মধ্যে সারবান্ পদার্থ এবং ভক্তবৃন্দের অভিলাষিত ফল প্রদান করে। এর দ্বারা সকল ভার দূরীভূত হয়। শঙ্করসেবক শঙ্করাচার্য্যকৃত এই স্তব বিরচিত। বিষয়ী ব্যক্তিরা এ স্তবপাঠে সংসার সমুদ্র পারি দিয়ে মুক্ত হয়।"
কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক,
সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀✔️✔️✔️✔️✔️🔻🔻✔️✔️✔️🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸

মন্তব্যসমূহ