নিজস্ব প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~TatwaDarshi~तत्त्वदर्शी ॐ
কালাডি গ্রামে আদি শঙ্করের জন্মস্থান
শঙ্কর এক রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা। তারা অধুনা কেরল রাজ্যের অন্তর্গত কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জনশ্রুতি, শঙ্করের বাবা-মা অনেক দিন ধরেই নিঃসন্তান ছিলেন। তাই তারা ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দেন। এরপর আর্দ্রা নক্ষত্রের বিশেষ তিথিতে শঙ্করের জন্ম হয়।
শঙ্কর যখন খুব ছোট, তখন তার বাবা মারা যান। এই জন্য শঙ্করের উপনয়নে দেরি হয়। পরে তার মা উপনয়ন করান।[১০] শঙ্কর ছেলেবেলা থেকেই খুব বিদ্বান ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চারটি বেদ আয়ত্ত্ব করে নেন।
শঙ্কর কেরল ত্যাগ করে গুরুর খোঁজে উত্তর ভারতের দিকে রওনা হলেন। নর্মদা নদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরে তিনি গৌড়পাদের শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের দেখা পান। গোবিন্দ শঙ্করের পরিচয় জানতে চাইলে, শঙ্কর মুখে মুখে একটি শ্লোক রচনা করেন। এই শ্লোকটিই অদ্বৈত বেদান্ত তত্ত্ব প্রকাশ করে। গোবিন্দ তা শুনে খুব খুশি হন এবং শঙ্করকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।[]
গোবিন্দ শঙ্করকে ব্রহ্মসূত্রের একটি ভাষ্য লিখতে এবং অদ্বৈত মত প্রচার করতে বলেন। শঙ্কর কাশীতে আসেন। সেখানে সনন্দন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। এই যুবকটি দক্ষিণ ভারতের চোল রাজ্যের বাসিন্দা ছিল। সে-ই প্রথম শঙ্করের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কথিত আছে, কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে যাওয়ার সময় এক চণ্ডালের সঙ্গে শঙ্করের দেখা হয়ে যায়। সেই চণ্ডালের সঙ্গে চারটি কুকুর ছিল। শঙ্করের শিষ্যরা চণ্ডালকে পথ ছেড়ে দাঁড়াতে বললে, চণ্ডাল উত্তর দেয়, "আপনি কী চান, আমি আমার আত্মকে সরাই না এই রক্তমাংসের শরীরটাকে সরাই?" শঙ্কর বুঝতে পারেন যে, এই চণ্ডাল স্বয়ং শিব এবং তার চারটি কুকুর আসলে চার বেদ। শঙ্কর তাকে প্রণাম করে পাঁচটি শ্লোকে বন্দনা করেন। এই পাঁচটি শ্লোক "মণীষা পঞ্চকম্" নামে পরিচিত।[
তিনি সারা ভারত পর্যটন করেন। তিনি চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। শঙ্করাচার্য অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে খ্যাত । এছাড়া তিনি হিন্দু সন্ন্যাসীদের দশনামী সম্প্রদায় ও হিন্দুদের পূজার সন্মত নামক পদ্ধতির প্রবর্তক।
সংস্কৃত ভাষায় লেখা আদি শঙ্করের রচনাবলির প্রধান লক্ষ্য ছিল অদ্বৈত তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা। আদি শঙ্কর উপনিষদ্ ও ব্রহ্মসূত্র অবলম্বনে সন্ন্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উপনিষদ্, ব্রহ্মসূত্র ও ভগবদ্গীতার ভাষ্যও রচনা করেন। এই সব বইতে তিনি তার প্রধান প্রতিপক্ষ মীমাংসা শাখার পাশাপাশি হিন্দু দর্শনের সাংখ্য শাখা ও বৌদ্ধ দর্শনের মতও খণ্ডন করেন।[
ভারতের কেদারনাথে কেদারনাথ মন্দিরের পিছনে তাঁর সমাধি মন্দিরে আদি শঙ্কর
আদি শঙ্কর কাশ্মীরে (বর্তমানে পাকিস্তান-দখলকৃত কাশ্মীর) সারদা পীঠ ভ্রমণ করেন। মাধবীয়া শঙ্করাবিজয়ম অনুসারে এ মন্দিরে চারটি প্রধান দিক থেকে পণ্ডিতদের জন্য চারটি দরজা ছিল। দক্ষিণ দরজা (দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী) কখনই খোলা হয়নি যা নির্দেশ করত যে দক্ষিণ ভারত থেকে কোনো পণ্ডিত সারদা পীঠে প্রবেশ করেনি। সকল জ্ঞানের শাখা যেমন মীমাংসা, বেদান্ত এবং অন্যান্য হিন্দু দর্শনের শাখাসমূহে সকল পণ্ডিতকে বিতর্কে পরাজিত করে আদি শঙ্কর দক্ষিণ দরজা খোলেন; তিনি সে মন্দিরের সর্বোৎকৃষ্ট জ্ঞানের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তার জীবনের শেষদিকে আদি শঙ্কর হিমালয়ের এলাকা কেদারনাথ-বদ্রীনাথে যান এবং বিদেহ মুক্তি ("মূর্তরুপ থেকে মুক্তি") লাভ করেন। কেদারনাথ মন্দিরের পিছনে আদি শঙ্করের প্রতি উৎসর্গীকৃত সমাধি মন্দির রয়েছে। যাহোক, স্থানটিতে তার শেষ দিনগুলির বিভিন্ন পরম্পরাগত মতবাদ রয়েছে। কেরালীয়া শঙ্করাবিজয়াতে ব্যাখ্যাকৃত এক পরম্পরাগত মতবাদ তার মৃত্যুর স্থান হিসেবে কেরালার থ্রিসুরের বদাক্কুন্নাথান মন্দিরকে নির্দেশ করে। কাঞ্চী কামাকোটি পীঠের অণুসারীরা দাবি করেন যে তিনি সারদা পীঠে আরোহণ করেন এবং কাঞ্চীপুরমে (তামিলনাড়ু) বিদেহ মুক্তি লাভ করেন।
মঠসমূহ
________
আদি শঙ্কর হিন্দু ধর্মের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করার জন্য চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো দক্ষিণে কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে, পশ্চিমে গুজরাটের দ্বারকায়, পূর্বে ওড়িশার পুরীতে গোবর্ধন মঠ এবং উত্তরে উত্তরখন্ডের জ্যোতির্মঠে (যশীমঠে)। হিন্দু পরম্পরাগত মতবাদ বিবৃত করে যে তিনি এসব মঠের দায়িত্ব দেন তার চারজন শিষ্যকে যথাক্রমে: সুরেশ্বরাচার্য, হস্তামলকাচার্য, পদ্মপাদাচার্য এবং তোটকাচার্য। এ চারটি মঠের প্রত্যেক প্রধান প্রথম শঙ্করাচার্যের নামানুসারে শঙ্করাচার্য ("পণ্ডিত শঙ্কর") উপাধি গ্রহণ করেন।[২৮]
দর্শন ও ধর্মীয় ভাবনা
আদি শঙ্করাচার্য অদ্বৈতবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন । তিনি বলেন যে , ব্রহ্মই হল একমাত্র সত্য - এই জগৎ ব্রহ্মময় । তার মতে , " সঠিক বিদ্যা না থাকার ফলে মানুষ ব্রহ্মকে বুঝতে পারে না '' । আত্মাই হল ব্রহ্ম । এই ব্রহ্ম নির্গুণ এবং আনন্দময় । কিন্তু ব্রহ্ম আবার পারমার্থিক দৃষ্টিতে ব্রহ্ম হলেও ব্যবহারিক দৃষ্টিতে ঈশ্বর বলে প্রতিভাত হয় । অবিদ্যা ব্রহ্মের শক্তিবিশেষ যার ফলে জীব নিজেকে ব্রহ্মের থেকে ভিন্ন মনে করে । প্রকৃতপক্ষে , জীবাত্মা ও পরমাত্মা অভিন্ন ।
শঙ্করাচার্য রচিত কয়েকটি স্তোত্রম্
__________________
অথ শ্রী অন্নপূর্ণা স্তোত্রং।
ওঁ নিত্যানন্দকরী বরাভয়করী সৌন্দর্যরত্নাকরী
নির্ধূতাখিলঘোরপাবনকরী প্রত্যক্ষমাহেশ্বরী।
প্রালেয়াচলবংশপাবনকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥১॥
নানারত্নবিচিত্রভূষণকরী হেমাম্বরাড়ম্বরী
মুক্তাহার-বিলম্বমান বিলসদ্বক্ষোজ-কুম্ভান্তরী।
কাশ্মীরাগরুবাসিতা রুচিকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥২॥
যোগানন্দকরী রিপুক্ষয়করী ধর্ম্মৈকনিষ্ঠাকরী
চন্দ্রার্কানলভাসমানলহরী ত্রৈলোক্যরক্ষাকরী।
সর্ব্বৈশ্বর্য্যসমস্তবাঞ্ছনকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৩॥
কৈলাসাচলকন্দরালয়করী গৌরী উমা শঙ্করী
কৌমারী নিগমার্থগোচরকরী ওঙ্কারবীজাক্ষরী।
মোক্ষদ্বারকবাটপাটনকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৪॥
দৃশ্যাদৃশ্যবিভূতিভাবনকরী ব্রহ্মাণ্ডভাণ্ডোদরী
লীলানাটকসূত্রভেদনকরী বিজ্ঞানদীপাঙ্কুরী।
শ্রীসচ্চিদানন্দময়ী পরমেশ্বরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৫॥
উর্ব্বী সর্ব্বজনেশ্বরী ভগবতী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী
বেণীনীল-সমানকুন্তলধরী নিত্যান্নদানেশ্বরী।
সর্ব্বানন্দকরী সদা শিবকরী কাশীপুরাধীশ্বরী।
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৬॥
আদিক্ষান্তসমস্তবর্ণনকরী চন্দ্রপ্রভাভাস্করী
কাশ্মীরা ত্রিপুরেশ্বরী ত্রিলহরী নিত্যাঙ্কুরী শর্ব্বরী।
কামাকাঙ্ক্ষ্যকরী মহোৎসবকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৭॥
দর্বীপাকসুবর্ণরত্নঘটিকা দক্ষে করে সংস্থিতা
বামে চারুপয়োধরী রসভরী সৌভাগ্যমাহেশ্বরী।
ভক্তাভীষ্টকরী ফলপ্রদকরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৮॥
চন্দ্রার্কানলকোটিপূর্ণবদনা বালার্কবর্ণেশ্বরী
চন্দ্রার্কাগ্নিসমানকুণ্ডলধরী চন্দ্রার্কবিম্বাধরী।
মালাপুস্তকপাশকাঙ্কুশধরী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥৯॥
সর্ব্বত্রাণকরী মহাভয়হরী মাতা কৃপাসাগরী
সাক্ষান্মোক্ষকরী সদা শিবকরী বিশ্বেশ্বরী শ্রীধরী।
দাক্ষানন্দকরী নিরাময়করী কাশীপুরাধীশ্বরী
ভিক্ষাং দেহি কৃপাবলম্বনকরী মাতান্নপূর্ণেশ্বরী ॥১০॥
অন্নপূর্ণে সদাপূর্ণে শঙ্করপ্রাণবল্লভে।
জ্ঞানবৈরাগ্যসিদ্ধ্যর্থং ভিক্ষাং দেহি চ পার্বতি ॥১১॥
মাতা চ পার্বতী দেবী পিতা দেবো মহেশ্বরঃ।
বান্ধবাঃ শক্তিভক্তাশ্চ স্বদেশো ভুবনত্রয়ম্ ॥১২॥
॥ইতি শ্রীমচ্ছঙ্করাচার্য্যবিরচিতং অন্নপূর্ণাস্তোত্রং সম্পূর্ণম্॥
মোহমুদ্গর
( বা ‘ভজ গোবিন্দং’ বা ‘চর্পটপঞ্জরিকাস্তোত্রম্’)
১.
भज गोविन्दं भज गोविन्दं गोविन्दं भज मूढमते ।
सम्प्राप्ते सन्निहिते काले नहि नहि रक्षति डुकृङ्करणे ॥
ভজ গোবিন্দং, ভজ গোবিন্দং, গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে।
সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতে কালে নহি নহি রক্ষতি ডুকৃংকরণে ॥
বাংলায়:
ভজ গোবিন্দ, ভজ গোবিন্দ, গোবিন্দ ভজ মূঢ়মনা।
কাল ঘনালে অং-বং করে কেউই রেহাই পাবে না ॥
২.
मूढ जहीहि धनागमतृष्णां
कुरु सद्बुद्धिं मनसि वितृष्णाम् ।
वितृष्णाम् यल्लभसे निजकर्मोपात्तं
वित्तं तेन विनोदय चित्तम् ॥
মূঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাং
কুরু সদ্বুদ্ধিং মনসি বিতৃষ্ণাং।
বিতৃষ্ণাম্ যল্লভসে নিজকর্ম উপাত্তং
বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্ ॥
বাংলায়:
মূঢ় সে, আছে যার ধনাগম তৃষ্ণা,
সদ্বুদ্ধিতে মনে আনো বিতৃষ্ণা।
বিতৃষ্ণা এসে গেলে কর্মের বৃত্তে
বিত্ত তখন দেবে আনন্দ চিত্তে ॥
৩.
नारीस्तनभरनाभीदेशं
दृष्ट्वा मा गा मोहावेशम् ।
एतन्मांसवसादिविकारं
मनसि विचिन्तय वारं वारम् ॥
নারীস্তনভরনাভীদেশং
দৃষ্ট্বা মা গা মোহাবেশম্।
এতৎ মাংস বসাদি বিকারং
মনসি বিচিন্তয় বারং বারম্ ॥
বাংলায়:
নারীদের স্তনভার আর নাভীদেশ
দেখে মনে যেন নাহি আসে মোহাবেশ।
এগুলো তো মাংস ও মেদের বিকার
এ কথা তোমার মনে ভাবো বার বার ॥
৪.
नलिनीदलगतजलमतितरलं
तद्वज्जीवितमतिशयचपलम् ।
विद्धि व्याध्यभिमानग्रस्तं
लोकं शोकहतं च समस्तम् ॥
নলিনীদলগত জলম্ অতি তরলং
তদ্বৎ জীবন অতিশয় চপলম্।
বিদ্ধি ব্যাধ্য অভিমানগ্রস্তং
লোকং শোকহতং চ সমস্তম্ ॥
বাংলায়:
পদ্মের পাঁপড়িতে জল অতি তরল
তেমনি এ জীবনও তো বড়ই চপল।
রোগব্যাধি, শোকতাপ আর অহংকার
এসবে ডুবেছে জেনো সমস্ত সংসার ॥
৫.
यावद्वित्तोपार्जनसक्त
स्तावन्निजपरिवारो रक्तः ।
पश्चाज्जीवति जर्जरदेहे
वार्तां कोऽपि न पृच्छति गेहे ॥
যাবৎ বিত্ত উপার্জনসক্ত
স্তাবৎ নিজ পরিবারো রক্তঃ।
পশ্চাৎ জীবতি জর্জর দেহে
বার্তা কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে ॥
বাংলায়:
যতদিন বিত্ত উপার্জনসক্ত
ততদিনই নিজ পরিবার অনুরক্ত।
তারপর বেঁচে থাকে জরাজীর্ণ দেহে
বার্তা তো তার কেউ পুছে না গেহে ॥
৬.
यावत्पवनो निवसति देहे
तावत्पृच्छति कुशलं गेहे ।
गतवति वायौ देहापाये
भार्या बिभ्यति तस्मिन्काये ॥
যাবৎ পবনো নিবসতি দেহে
তাবৎ পৃচ্ছতি কুশলং গেহে।
গতবতি বায়ৌ দেহাপায়ে
ভার্যা বিভ্যতি তস্মিন্ কায়ে ॥
বাংলায়:
যতক্ষণ প্রাণবায়ু থাকে এই দেহে
ততক্ষণ কুশল জিজ্ঞাসা করে গেহে।
দেহ থেকে প্রাণবায়ু যেই বেরিয়ে যায়
তখন সে কায়া দেখে স্ত্রীও ভয় পায় ॥
৭.
बालस्तावत्क्रीडासक्तः
तरुणस्तावत्तरुणीसक्तः ।
वृद्धस्तावच्चिन्तासक्तः
परमे ब्रह्मणि कोऽपि न सक्तः ॥
বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্তঃ
তরুণঃ তাবৎ তরুণীরক্তঃ।
বৃদ্ধঃ তাবৎ চিন্তামগ্নঃ
পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ ॥
বালকেরা সবে দেখো ক্রীড়াসক্ত,
তরুণেরা সবাই তরুণী অনুরক্ত।
বৃদ্ধেরা সকলেই চিন্তামগ্ন,
পরম ব্রহ্মে কেউই নয় লগ্ন ॥
৮.
का ते कान्ता कस्ते पुत्रः
संसारोऽयमतीव विचित्रः ।
कस्य त्वं कः कुत आयात-
स्तत्त्वं चिन्तय तदिह भ्रातः ॥
কা তে কান্তা কঃ তে পুত্রঃ
সংসারোঃ অয়ম্ অতীব বিচিত্রঃ।
কস্য ত্বং কঃ কুত আয়াতঃ
তৎ ত্বং চিন্তয় তদিহ ভ্রাতঃ ॥
বাংলায়:
কে তোমার পত্নী, কে তোমার পুত্র?
এই সংসার জেনো খুবই বিচিত্র।
তুমি কে বলো তো? কোত্থেকে এলে?
ভেবে দেখো সেটা ভাই অন্তর মেলে ॥
৯.
सत्सङ्गत्वे निस्सङ्गत्वं
निस्सङ्गत्वे निर्मोहत्वम् ।
निर्मोहत्वे निश्चलतत्त्वं
निश्चलतत्त्वे जीवन्मुक्तिः ॥
সৎসঙ্গত্বে নিঃসঙ্গত্বং
নিঃসঙ্গত্বে নির্মোহত্বম্।
নির্মোহত্বে নিশ্চলতত্ত¡ং
নিশ্চলতত্তে¡ জীবন্মুক্তম্ ॥
বাংলায়:
সৎসঙ্গে নিঃসঙ্গত্ব
নিঃসঙ্গত্বে নির্মোহত্ব।
নির্মোহত্বে নিশ্চলতত্ত¡
নিশ্চলতত্ত্বে জীবন্মুক্ত ॥
১০.
वयसि गते कः कामविकारः
शुष्के नीरे कः कासारः ।
क्षीणे वित्ते कः परिवारः
ज्ञाते तत्त्वे कः संसारः ॥ূ
বয়সি গতে কঃ কামবিকারঃ
শুষ্কে নীরে কঃ কাসারঃ।
ক্ষীণে বিত্তে কঃ পরিবারঃ
জ্ঞাতে তত্ত্ব কঃ সংসারঃ ॥
বাংলায়:
বুড়ো হলে কোথা আর কামের কামড়?
জল না থাকলে সে কেমন সরোবর?
বিত্ত না থাকলে কোথায় পরিবার?
তত্ত্ব জেনে গেলে আর কিসের সংসার?
১১.
मा कुरु धनजनयौवनगर्वं
हरति निमेषात्कालः सर्वम् ।
मायामयमिदमखिलं हित्वा
ब्रह्मपदं त्वं प्रविश विदित्वा ॥
মা কুরু ধনজনযৌবন গর্বং
হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্বম্।
মায়াময়ম্ ইদং অখিলং হিত্বা
ব্রহ্মপদং ত্বং প্রবিশ বিদিত্বা ॥
বাংলায়:
ধন-জন-যৌবনের কোরো না গর্ব
কাল তো নিমেষেই কেড়ে নেবে সর্ব।
মায়াময় এ অখিল জগৎ সংসার —
এই জেনে ব্রহ্মপদে মাগো হে নিস্তার ॥
১২.
दिनयामिन्यौ सायं प्रातः
शिशिरवसन्तौ पुनरायातः।
कालः क्रीडति गच्छत्यायु-
स्तदपि न मुञ्चत्याशावायुः॥
দিনযামিন্যৌ সায়ং প্রাতঃ
শিশির বসন্তৌ পুনরায়াতঃ।
কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছতায়ু-
স্তদপি ন মুঞ্চতি আশাবায়ুঃ ॥
বাংলায়:
দিন ও রাত, সন্ধ্যা-সকাল আর
শীত-বসন্ত ফিরে আসে বার বার।
কাল খেলা করে, ফুরিয়ে আসছে আয়ু
তবুও মোছে না আশার ঝঞ্ঝাবায়ু ॥
১৩.
का ते कान्ता धनगतचिन्ता
वातुल किं तव नास्ति नियन्ता।
त्रिजगति सज्जनसङ्गतिरेका
भवति भवार्णवतरणे नौका॥
কা তা কান্তা ধনগত চিন্তা
বাতুল কিং তব নাস্তি নিয়ন্তা।
ত্রিজগতি সজ্জন সঙ্গতিঃ একা
ভবতি ভবার্ণব তরণে নৌকা ॥
বাংলায়:
কে তোমার কান্তা*, ধনগত চিন্তা?
বাতুল, কেউ কি নেই তোমার নিয়ন্তা?
ত্রিজগতে সজ্জন সঙ্গতি সে একা,
এ ভবসাগর পারে সে-ই হবে নৌকা ॥
………….
*স্ত্রী
১৪.
जटिलो मुण्डी लुञ्छितकेशः
काषायाम्बरबहुकृतवेषः।
पश्यन्नपि च न पश्यति मूढो
ह्युदरनिमित्तं बहुकृतवेषः॥
জটিলো মুণ্ডী লুঞ্ছিতকেশঃ
কাষায় অম্বর বহুকৃতবেশঃ।
পশ্যন্নপি চ ন পশ্যতি মূঢ়োহি
উদর নিমিত্তং বহুকৃতবেশ ॥
বাংলায়:
কারো শিরে জটাজাল, কেউ শূন্যকেশ
কাপড় গেরুয়া কারো, কেউ সাদা বেশ।
সত্য প্রকাশিত, তবু দেখে না মূঢ়েরা
উদরের জন্যে শুধু নানা বেশে ফেরা।
১৫.
अङ्गं गलितं पलितं मुण्डं
दशनविहीनं जातं तुण्डम् ।
वृद्धो याति गृहीत्वा दण्डं
तदपि न मुञ्चत्याशापिण्डम्॥
অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডং
দশনবিহীনং জাতং তুণ্ডম্।
বৃদ্ধো যাতি গৃহিত্বা দণ্ডং
তদপি ন মুঞ্চতি আশাপিণ্ডম্ ॥
বাংলায়:
অঙ্গ গলিত*, পলিত** মুণ্ড,
দন্তবিহীন হয়েছে তুণ্ড**।
বৃদ্ধেরা যায় হাতে ধরে লাঠি
তবু আশামূল ছাড়ে না তো মাটি!
……………….
*জরাগ্রস্ত, **চুলশূন্য, ***মাড়ি
১৬.
अग्रे वह्निः पृष्ठे भानुः
रात्रौ चुबुकसमर्पितजानुः।
करतलभिक्षस्तरुतलवास
स्तदपि न मुञ्चत्याशापाशः॥
অগ্রে বহ্নিঃ পৃষ্ঠে ভানুঃ
রাত্রৌ চুবুক সমর্পিত জানুঃ।
করতল ভিক্ষঃ তরুতলবাসঃ
তদপি ন মুঞ্চতি আশাপাশ ॥
বাংলায়:
সামনে আগুন আর পেছনে রোদ্দুর
রাত্রে চিবুকে হাঁটু গুঁজে নিদ্রাতুর।
হাত পেতে ভিক্ষা আর তরুতলে বাস
তবুও ঘোচে না এই তীব্র আশাপাশ*।
………………….
*আশার বন্ধন
১৭.
कुरुते गङ्गासागरगमनं
व्रतपरिपालनमथवा दानम्।
दानम् ज्ञानविहीनः सर्वमतेन
मुक्तिं न भजति जन्मशतेन॥
কুরুতে গঙ্গাসাগর গমনং
ব্রত পরিপালনম্ অথবা দানম্।
জ্ঞানবিহীনঃ সর্বমতেন
ভজতি ন মুক্তিং জন্মশতেন ॥
বাংলায়:
হাজার তীর্থে গিয়ে, করে ব্রত দান
কিছুই হবে না যদি নাহি থাকে জ্ঞান।
শূন্য হবে কর্মফল অসংখ্য পুণ্যকর্মেও,
জ্ঞান ছাড়া মুক্তি নেই এমনকি শতজন্মেও।
১৮.
सुरमंदिरतरुमूलनिवासः
शय्या भूतलमजिनं वासः।
सर्वपरिग्रहभोगत्यागः
कस्य सुखं न करोति विरागः॥
সুরমন্দির তরুমূল নিবাসঃ
শয্যা ভূতলম্ অজিনং বাসঃ।
সর্বপরিগ্রহ ভোগ ত্যাগঃ
কস্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ ॥
বাংলায়:
তরুমূলে কোনো দেবমন্দিরে নিবাস,
শয়ন ভূমিতে, পরিধানে চর্মবাস,
সব পরিগ্রহ ভোগে হয়ে গেছে ত্যাগ —
এমন সুখেতে কার আসবে বিরাগ?
১৯.
योगरतो वा भोगरतो वा
सङ्गरतो वा सङ्गविहीनः।
यस्य ब्रह्मणि रमते चित्तं
नन्दति नन्दति नन्दत्येव ॥
যোগরতো বা ভোগরতো বা
সঙ্গরতো বা সঙ্গবিহীন।
যস্য ব্রহ্মপি রমতে চিন্তং
নন্দতি নন্দতি নন্দতি এব ॥
বাংলায়:
যোগে রত হও কিংবা ভোগে হও রত,
সঙ্গরত হও বা হও সঙ্গবিরত,
ব্রহ্মে যার চিন্তা সদা করিছে রমণ
আনন্দে আনন্দে আনন্দে সে সর্বক্ষণ ॥
২০.
भगवद्गीता किञ्चिदधीता
गङ्गाजललवकणिका पीता।
सकृदपि येन मुरारिसमर्चा
क्रियते तस्य यमेन न चर्चा॥
ভগবদ্গীতা কিঞ্চিৎ অধীতা
গঙ্গাজল লবকণিকা পীতা।
সকৃদপি যেন মুরারিসমর্চা
ক্রিয়তে তস্য যমেন ন চর্চা ॥
বাংলায়:
যে করেছে কিছুমাত্র গীতা অধ্যয়ন,
বিন্দুমাত্র গঙ্গাজলও যে করেছে পান,
যার সুকৃতিতে আছে মুরারি* অর্চনা
যমও কখনো তার কেশাগ্র ছোঁবে না।
……………………………………………………………………………………..
*ভক্তিবাদের প্রায়োগিকতার প্রয়োজনে শঙ্করাচার্য নিরাকার ব্রহ্মকে সাকার গোবিন্দ, মুরারি প্রভৃতি নামে সম্বোধন করেছেন।
২১.
पुनरपि जननं पुनरपि मरणं
पुनरपि जननीजठरे शयनम्।
इह संसारे बहुदुस्तारे
कृपयाऽपारे पाहि मुरारे॥
পুনরপি জননং পুনরপি মরণং
পুনরপি জননীজঠরে শয়নম্।
ইহ সংসারে বহুদুস্তারে
কৃপয়া-পারে পাহি মুরারে ॥
বাংলায়:
আবারও জন্ম, আবার মরণ
আবার জননীজঠরে* শয়ন।
বড় দুস্তর এই সংসার —
হে মুরারী, করো কৃপা করে পার।
……………………
*মায়ের গর্ভে
২২.
रथ्याचर्पटविरचितकन्थः
पुण्यापुण्यविवर्जितपन्थः।
योगी योगनियोजितचित्तो
रमते बालोन्मत्तवदेव॥
রথ্যা চর্পট বিরচিত কন্থঃ
পুণ্য অপুণ্য বিবর্জিত পন্থঃ।
যোগী যোগ নিয়োজিত চিন্তো
রমতে বালোন্মত্ত বদেব ॥
বাংলায়:
পথে যতদিন আছে চটে তৈরি কাঁথা,
পুণ্যাপুণ্য বিবর্জিত রাস্তা আছে পাতা,
যোগী থাকে সদা যোগচিন্তা নিমগন
উন্মত্ত বালকসম তার বিচরণ।
২৩.
कस्त्वं कोऽहं कुत आयातः
का मे जननी को मे तातः ।
इति परिभावय सर्वमसारम्
विश्वं त्यक्त्वा स्वप्नविचारम् ॥
কস্ত্বং কোহহং কুত আয়াতঃ
কা মে জননী কো মে তাতঃ।
ইতি পরিভাবয় সর্বমসারম্
বিশ্বং ত্যক্ত্বা স্বপ্নবিচারম্ ॥
বাংলায়:
কে তুমি, কে আমি, কোথা থেকে আসি?
কে মাতা, কে পিতা, কোথা যাই ভাসি?
এ পরিভাবনাই জেনো সবকিছুর সার
বিশ্ব ত্যাগ করে করো স্বপ্নের বিচার।
২৪.
त्वयि मयि चान्यत्रैको विष्णु
र्व्यर्थं कुप्यसि मय्यसहिष्णुः ।
भव समचित्तः सर्वत्र त्वं
वाञ्छस्यचिराद्यदि विष्णुत्वम् ॥
ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকো বিষ্ণুঃ
ব্যর্থং কৃপ্যসি ময্যসহিষ্ণুঃ।
ভব সমচিন্তঃ সর্বত্র ত্বং
বাঞ্ছস্য চিরাদ্ যদি বিষ্ণুত্বম্ ॥
বাংলায়:
তুমি-আমি সবেতেই একমাত্র বিষ্ণু
ব্যর্থ হবে কৃপা তাঁর হলে অসহিষ্ণু।
সর্বত্রই সমচিন্ত হয়ে তুমি যাও
যদি চিরতরে তুমি বিষ্ণুত্বই চাও।
২৫.
शत्रौ मित्रे पुत्रे बन्धौ
मा कुरु यत्नं विग्रहसन्धौ ।
सर्वस्मिन्नपि पश्यात्मानं
सर्वत्रोत्सृज भेदाज्ञानम् ॥
শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ
মা কুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।
সর্বস্মিন্নপি পশ্যাত্মানং
সর্বত্রোৎ সৃজ ভেদাজ্ঞানম্ ॥
বাংলায়:
শত্রু মিত্র পুত্র আর আত্মীয়ের সনে
কালক্ষেপ কোরো না কো সন্ধিতে বা রণে।
সকলেরই মধ্যে দেখো নিজের আত্মাকে,
ত্যাজো ভেদজ্ঞান যদি লেশমাত্র থাকে।
২৬.
कामं क्रोधं लोभं मोहं
त्यक्त्वाऽऽत्मानं भावय कोऽहम् ।
आत्मज्ञानविहीना मूढा
स्ते पच्यन्ते नरकनिगूढाः॥
কামং ক্রোধং লোভং মোহং
ত্যাক্তাত্মানং পশ্যতি সোহম্।
আত্মজ্ঞানবিহীনা মূঢ়া
স্তে পচ্যন্তে নরকনিগূঢ়াঃ ॥
বাংলায়:
কাম ক্রোধ লোভ মোহ পিছে রেখে
তবেই আত্মা পরমাত্মাকে দেখে।
আত্মজ্ঞানবিহীন যেজন মূূঢ়
পচবে সেজন জেনো নরকে নিগূঢ়।
২৭.
गेयं गीतानामसहस्रं
ध्येयं श्रीपतिरूपमजस्रम् ।
नेयं सज्जनसङ्गे चित्तं
देयं दीनजनाय च वित्तम् ॥
গেয়ং গীতানামসহস্রং
ধ্যেয়ং শ্রীপতিরূপমজস্রম্।
নেয়ং সজ্জনসঙ্গে চিত্তং
দেয়ং দীনজনায় চ বিত্তম্ ॥
বাংলায়:
গান করো গীতানাম সহস্র
ধ্যান করো শ্রীপতিরূপ অজস্র।
সজ্জনসঙ্গে নাও চিত্ত
দীনজনকে দাও বিত্ত।
২৮.
सुखतः क्रियते रामाभोगः
पश्चाद्धन्त शरीरे रोगः ।
यद्यपि लोके मरणं शरणं
तदपि न मुञ्चति पापाचरणम् ॥
সুখতঃ ক্রিয়তে রামাভোগঃ
পশ্চাদ্ধান্ত শরীরে রোগঃ।
যদ্যপি লোকে মরণং শরণং
তদপি ন মুঞ্চতি পাপাচরণম্ ॥
বাংলায়:
সুখের খেলায় করে মনোরম ভোগ
ফলে পরে দেহে বাসা বাঁধে কত রোগ।
যদিও সবার হবে নিশ্চিত মরণ
তবুও না ছাড়ে কেউ পাপ আচরণ ।
২৯.
अर्थमनर्थं भावय नित्यं
नास्तिततः सुखलेशः सत्यम् ।
पुत्रादपि धनभाजां भीतिः
सर्वत्रैषा विहिता रीतिः ॥
অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং
নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যম্।
পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ
সর্বত্রৈষা বিহিতা রীতিঃ ॥
বাংলায়:
অর্থ অনর্থ — এই ভাবো নিত্য।
জেনো তাতে নেই কোনো সুখলেশ সত্য।
ধনবান মনে পোষে পুত্রেও ভীতি —
সর্বত্র এই হলো প্রচলিত রীতি।
৩০.
प्राणायामं प्रत्याहारं
नित्यानित्य विवेकविचारम् ।
जाप्यसमेतसमाधिविधानं
कुर्ववधानं महदवधानम् ॥
প্রাণায়ামং প্রত্যাহারং
নিত্যানিত্য বিবেকবিচারম্।
জাপ্যসমেতসমাধিবিধানং
কুর্ববধানং মহদবধানম্ ॥
বাংলায়:
প্রাণায়াম, চিত্ত প্রত্যাহার
নিত্য-অনিত্য নিয়ে বিবেক বিচার,
জাপ্যের সাথে মহাসমাধি বিধান
করো অবধান, মহৎ অবধান।
৩১.
गुरुचरणाम्बुजनिर्भरभक्तः
संसारादचिराद्भव मुक्तः ।
सेन्द्रियमानसनियमादेवं
द्रक्ष्यसि निजहृदयस्थं देवम् ॥
গুরুচরণাম্বুজনির্ভরভক্তঃ
সংসারাদচিরাদ্ভব মুক্তঃ।
সেন্দ্রিয়সানসনিয়মাদেবং
দ্রক্ষ্যসি নিজহৃদয়স্থং দেবম্ ॥
বাংলায়:
গুরুর চরণে নির্ভর করে ভক্ত
সংসার থেকে অচিরেই হয় মুক্ত।
সংযত করে ইন্দ্রিয় আর মন
নিজ দেহে পায় দেবতার দর্শন।
৩২.
मूढः कश्चन वैयाकरणो
डुःकृङ्करणाध्ययनधुरीणः ।
श्रीमच्छङ्करभगवच्छिष्यै-
र्बोधित आसीच्छोधितकरणः ॥
মূঢ়ঃ কশ্চন বৈয়াকরণো
ডুঃক্রিঙ্করণাধ্যয়নধুরীণঃ।
শ্রীমৎ শঙ্কর ভগবৎ শিষ্যে-
র্বোধিত আসীৎ শোধিতকরণং ॥
বাংলায়:
মূঢ় সে এক বৈয়াকরণ
অং-বং-চং করে অধ্যয়ন।
হয়ে শঙ্করাচার্যের শিষ্য
বোধে এসে হলো শোধিতকরণ।
৩৩.
भज गोविन्दं भज गोविन्दं
गोविन्दं भज मूढमते ।
नामस्मरणादन्यमुपायं
नहि पश्यामो भवाब्धितरणे ॥
ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে।
নামস্মরণাদন্যমুপায়ং
নহি পশ্যামি ভবাব্ধিতরণে ॥
বাংলায়:
ভজ গোবিন্দ, ভজ গোবিন্দ,
গোবিন্দ ভজ মূঢ়মতি।
ভবনদী পার হতে নাম স্মরণ ছাড়া
দেখছি না কোনো আর গতি।
তথ্যসূত্র: ইউকিপিডিয়া

মন্তব্যসমূহ