সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অক্ষয় তৃতীয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন সম্পর্কে জেনে আসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ॐ তত্ত্বদর্শী~TatwaDarshi~तत्त्वदर्शी ॐ








অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে।

চলুন এক নজর দেখে নিই অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে ইতিহাসে যে সকল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল- 

👉১) এদিনই বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম আবির্ভূত হন পৃথিবীতে।

👉২) এদিনই রাজা ভগীরথের প্রার্থনায় গঙ্গা দেবী মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন।

👉৩) এদিনই গণপতি গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।

👉৪) এদিনই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।

👉৫) এদিনই প্রতি কল্পে সত্যযুগের সূচনা হয়।

👉৬) এদিনই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।

👉৭) এদিনই ভক্তরাজ সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চিড়া নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।

👉৮) এদিনই দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরনাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।

👉৯) এদিন থেকেই পুরীধামে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।

👉১০) কেদার বদরী গঙ্গোত্রী যমুনত্রীর যে মন্দির ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল।

👉১১) এদিন ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের চন্দনযাত্রা মহোৎসব।

👉১২) দক্ষযজ্ঞে পতিনিন্দা শ্রবণে সতী দেহত্যাগ করেছিলেন নিজের দেহ থেকে কোপাগ্নি সৃষ্টি করে। সেই অগ্নিময় দেহ ধূমে পরিব্যাপ্ত হয়েছিল। সেই তিথিটি ছিল অক্ষয় তৃতীয়া-মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায়। তাই তন্ত্রে বলে দেবী ধূমাবতীর সৃষ্টি- “প্রাপ্তে অক্ষয় তৃতীয়ায়াং জাতা ধূমাবতীশিবে। কালী-কালী কালবক্ত্রা ভৌমবারে নিশামুখে।”

🔱এছাড়া এই পবিত্র তিথিটির মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিভিন্ন শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। তন্মধ্যে-

👉স্মৃতিশাস্ত্রে বলছে- বৈশাখ মাসের শুক্লতৃতীয়া যদি কৃত্তিকা বা রোহিণীনক্ষত্র যুক্ত হয়, তবে তাকে অক্ষয় তৃতীয়া বলে। এ দিনে দান সহ যে যে পবিত্র কর্ম করা হয় তার সকল ফনলই অক্ষয় হয়।

👉ভবিষ্যোত্তর পুরাণে বলছে - বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের যে তৃতীয়া তিথি, তা জগতে অক্ষয় নামে প্রসিদ্ধ, তাই দেবগণেরও প্রিয় এ তিথি। যে ব্যক্তি এ দিনে জল ও অন্ন-সম্মিলিত কুম্ভ দান করে সে জ্যোতির্ময় সূর্যলোক প্রাপ্ত হয়।

👉ব্রহ্মপুরাণে বলছে- বৈশাখমাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়াতে যে ব্যক্তি চন্দনচর্চিত ভগবান শ্রীহরি বিগ্রহ দর্শন করে, সে ভগবানের পরমধামে গমন করে।

👉এছাড়া আরও বলা হয়েছে- পরমেশ্বর ভগবান বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়াতে সত্যযুগের অবতারণা করেন এবং খাদ্যশস্য হিসেবে যবের উৎপত্তি করেন। তাই এ দিনে যব দ্বারা ভগবানের পূজা করবে এবং ব্রাহ্মণ সহ সকলকে যব দান করবে এবং ভোজন করাবে। এদিনে পতিতপাবনী মা গঙ্গাও পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাই এ দিনে মহাদেব, গঙ্গা,কৈলাস ও হিমালয় পর্বতাদির পূজা করবে এবং সাথে সাথে সগরকুলের ধুরন্ধর ভগীরথ রাজারও পূজা করবে। এ দিনে স্নান,দান, তপ,শ্রাদ্ধ এবং হোম ইত্যাদি যে যে মঙ্গলময় অনুষ্ঠান করবে, তা সকলই অক্ষয় ফল দান করবে।

👉স্কন্ধপুরাণে ভগবান বলছেন- বৈশাখমাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া অক্ষয়া নামে অভিহিত, সেই তৃতীয়াতে আমার শরীর শোভন ও সুগন্ধ লেপনদ্রব্য দ্বারা লিপ্ত করবে।







ফেসবুক পেজ: Facebook.com/TatwaDarshiPage









মন্তব্যসমূহ